এইচআরডব্লিউ-HRW-newsedge24

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জাতিগত বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলছে, এর মাধ্যমে ভারত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। সরকারকে অবৈধ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।”

সংস্থাটি জানায়, ১ জুন ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) অন্তত ২১ বার বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ব্যর্থ করে দিয়েছে। এ সময়ে শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। অনেক পরিবার দুই দেশের সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ আটকে পড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’কে আটক করা হয়েছে এবং প্রায় ৫,০০০ জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে বেশ কয়েকটি ঘটনায় শিশুসহ পরিবারগুলোকে দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে আটকে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গভীর রাতে পুলিশি তল্লাশি

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, শিশুদের জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেওয়া শিশু অধিকার সনদের লঙ্ঘন। কারও জাতীয়তা যাই হোক না কেন, তাদের খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা ছাড়া সীমান্তে আটকে রাখা নিষ্ঠুর ও অমানবিক।

3 comments on “ভারতে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে জোরপূর্বক বহিষ্কার করেছে: এইচআরডব্লিউ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *