যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-newsedge24

যুক্তরাষ্ট্রের টানা সপ্তম রাতের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

তেহরান জানিয়েছে, শনিবার কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সহায়তা কেন্দ্র এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি রাডার স্থাপনা তারা ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধবিমান ও একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন প্রতিরোধে কার্যকর কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান না থাকায় তারা পাল্টা হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে আরও হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা দুই দিনের মধ্যে এটি এ ধরনের স্থাপনায় দ্বিতীয়বার হামলার ঘটনা। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা সপ্তম দিনের অভিযানে তারা ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে।

শুক্রবার উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ অবরোধ কার্যকর করার দাবি করলেও ইরানের ভাষ্য, তাদের নৌ চলাচলবিষয়ক নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শুক্রবার ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

আরও পড়ুন:  যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মেনে না নিলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরান

এক সপ্তাহ আগে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের সীমা পরীক্ষা করে চলেছে, ফলে বিশ্লেষকরা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সংঘাতের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

1 comment on “কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *