মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ডোনাল্ড ট্রাম্প-newsedge24

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ ইরান কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, দেশটির বিরুদ্ধে ‘এখন পর্যন্ত কোনো দেশের ওপর নেওয়া সবচেয়ে বিপর্যয়কারী অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরানকে আর্থিক ও বাণিজ্যিকভাবে সহায়তা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তার চেয়ে বেশি সুযোগ আর কেউ দেয়নি। কিন্তু তেহরান সেই সুযোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ‘অভূতপূর্ব মাত্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’ চালানোর ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করা হয়েছে, দেশটির বিমানবাহিনী বিধ্বস্ত এবং সামরিক কারখানাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের মুদ্রার মূল্যও ধসে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে ‘লাইফলাইন’ বা টিকে থাকার সহায়তা দেবে, তাদের ‘বিরাট অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। তিনি ইরানের সঙ্গে তেল পাচার, পণ্য বিনিময়ভিত্তিক বাণিজ্য, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মানি এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন এবং ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভুয়া বা আড়াল করা কোম্পানির কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট ধরন বা কোন কোন দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ঘোষণা দেননি ট্রাম্প। তার বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা বিদেশি দেশ ও কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার ব্যবহার আরও বাড়তে পারে।

১৭ জুন স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ১৭ আগস্ট শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই সমঝোতা করা হলেও চূড়ান্ত কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, সামরিক যুদ্ধ কাঙ্ক্ষিত ফল না দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই ব্যর্থতার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’কে সামনে আনছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের ঘোষিত অর্থনৈতিক অভিযানকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, এ উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর প্রচেষ্টা।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বহনকারী বেশ কয়েকটি ট্যাংকার চলাচল করছে বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটির ওপর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সুবিধার্থে মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি গোপন সামুদ্রিক করিডর তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন:  সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ ঘোষণার সমালোচনা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও চাপ প্রয়োগ করলে ইরান-সংক্রান্ত অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হবে না।

এই পরিস্থিতিতে সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইরাননীতি এখন নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক চাপ, জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চাপ এবং ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ সংকুচিত করার দিকে আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যর্থতার পরবর্তী ধাপ হিসেবে বর্ণনা করে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *