যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ এবং এর উপাদানে শুল্ক ছাড় দিয়েছে। এসব পণ্যে কোনো অ্যাড ভ্যালোরেম বা মূল্যানুযায়ী শুল্ক আরোপ করা হবে না। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ফেডারেল রেজিস্টারে এ সংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করেছে।
গতেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২ এপ্রিল পেটেন্টযুক্ত ওষুধ, বায়োলজিকস এবং সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এসব পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। মূল ঘোষণায় নির্দিষ্ট পেটেন্টযুক্ত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছিল। তালিকাভুক্ত একটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি ৩১ জুলাই থেকে এবং অন্যান্য আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে নতুন নোটিশে আগের ঘোষণার কয়েকটি সংশোধন করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান এ শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে নতুন সংজ্ঞায় পেটেন্টবিহীন প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত পণ্যকেও জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেলের আওতায় রাখা হয়েছে। ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেল বলতে প্রস্তুত ওষুধ, এর সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান এবং এসব উপাদান তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উপকরণকে বোঝানো হয়েছে।
শুল্ক ছাড়ের আওতায় থাকা ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার ওষুধ, কোষ ও জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট (এডিসি) এবং প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ। এসব ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানও শূন্য শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়বে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যোগ্য পণ্য শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা পাবে। এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে কার্যকর হতে যাওয়া বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তি থাকার কারণেই এ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্দান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম। এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ ও উপাদান যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির ফার্মাসিউটিক্যাল খাত গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্যের ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও মূল শুল্ক আরোপের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো, তবুও বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলোকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে।
নতুন নোটিশে জেনেরিক ওষুধকে শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না। একই সঙ্গে পেটেন্টবিহীন প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত পণ্যকেও জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করায় এ খাতেও শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নোটিশ অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যোগ্য পণ্য শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা পাবে।
আরও পড়ুন: চীন-যুক্তরাষ্ট্র ৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমাতে সম্মত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে। বিরল রোগের ওষুধ, কোষ ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ওষুধ তৈরিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে। তবে এ সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের ভেতরে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো। সেই লক্ষ্যে পেটেন্টযুক্ত ওষুধ ও বায়োলজিকসের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলোকে ছাড় দিয়ে একটি ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শিল্প সুরক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর রপ্তানি সুবিধা অব্যাহত থাকছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































