এসসিও সম্মেলন-newsedge24

চীনের তিয়ানজিনে শুরু হয়েছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ২০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতা অংশ নিয়েছেন। এটি এসসিও-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসসিও-ভুক্ত ১০টি দেশের নেতারা লাল গালিচায় দাঁড়িয়ে গ্রুপ ছবি তোলেন। লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, শি জিনপিং, পুতিন এবং মোদি নিজেদের মধ্যে আলোচনায় মগ্ন। সম্মেলনের পাশাপাশি শি জিনপিং মোদি ও পুতিনের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন, যেখানে ভারত-চীন সম্পর্কের উন্নতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

উদ্বোধনী ভাষণে শি জিনপিং আঞ্চলিক নেতাদের ঠাণ্ডা যুদ্ধের মানসিকতা এবং ব্লক রাজনীতির বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিশ্ব ক্রমবর্ধমান জটিল হয়ে উঠছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো কঠিন নিরাপত্তা ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আমাদের ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে, ঠাণ্ডা যুদ্ধের মানসিকতা, গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব এবং জবরদস্তিমূলক আচরণ প্রত্যাখ্যান করতে হবে।” তিনি এসসিও-কে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

শি আরও ঘোষণা দেন, চীন ২০২৫ সালে এসসিও সদস্য দেশগুলোর জন্য ২ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ২৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের বিনামূল্যে সহায়তা এবং ১০ বিলিয়ন ইউয়ানের ঋণ প্রদান করবে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: মোদি-শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এসসিও সম্মেলনটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি এবং ভারত ও চীনের ওপর আরোপিত শুল্কের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সম্মেলন চীনের নেতৃত্বে বৈশ্বিক দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) ঐক্য প্রদর্শনের একটি মঞ্চ। তবে, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা এবং সংগঠনের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে বাস্তবসম্মত ফলাফল সীমিত থাকতে পারে।

সম্মেলনের পাশাপাশি শি জিনপিং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। পুতিন সম্মেলনের পর বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *