মোজতবা খামেনি-mojtaba khamenei-newsedge24

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত অবস্থায় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাওয়া হবে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একজন সংবাদ উপস্থাপকের মাধ্যমে পড়ে শোনানো এই বক্তব্যে পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতোই কঠোর ও দৃঢ় হুঙ্কার দিয়েছেন । মোজতবা খামেনি নিজে ক্যামেরার সামনে আসেননি। খবর অনলাইন এনডিটিভি, আল-জাজিরা ও রয়টার্সের।

মোজতবা খামেনি বলেন, “ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো চালু থাকলে সেগুলোতেও হামলা হবে। সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে।” তিনি যুদ্ধে নিহতদের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, “ইরান তার শত্রুর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করবে। যদি তা না দেওয়া হয়, তাহলে ইরান তাদের সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে নেবে অথবা একই মাত্রায় সেগুলো ধ্বংস করবে।”

একই দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক পোস্টে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তিনটি শর্ত তুলে ধরেন। শর্তগুলো হলো:

  • ইরানের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি
  • যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান
  • ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি

পেজেশকিয়ান লেখেন, “রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আমি আবারও এ অঞ্চলে শান্তির প্রতি ইরানের অঙ্গীকার জানিয়েছি। জায়নবাদী শাসন ও যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ শুরু করেছে। এই যুদ্ধ শেষ করার একমাত্র উপায় হলো ইরানের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় গ্যারান্টি।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার কন্যা, জামাই, নাতি ও স্ত্রী নিহত হন। মোজতবা খামেনি আহত হয়ে বেঁচে যান। পরবর্তীতে তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়।

আরও পড়ুন:

হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘এক লিটার তেলও’ যেতে দেবেনা ইরান

এদিকে বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের অবিরাম হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরান চেষ্টা করছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এমন চাপ সৃষ্টি করতে যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আরেকটি হামলার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা গ্যারান্টি না পাওয়া পর্যন্ত ইরানের আক্রমণ চলতেই থাকবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *