ইসরাইলের সেনাবাহিনী আংশিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। রোববার (২৭ জুলাই, ২০২৫) অন্তত ৬৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। ইসরাইলি সেনাবাহিনী রোববার ঘোষণা দিয়েছিল, গাজার আল মাওয়াসি, দেইর আল বালাহ, এবং গাজা শহরে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টা লড়াই বন্ধ থাকবে। এছাড়া, সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খাদ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য মানবিক করিডোর খোলা রাখার কথা জানানো হয়।
কিন্তু ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইল পুনরায় বিমান হামলা শুরু করে। আল জাজিরার একজন সাংবাদিক জানান, দেইর আল বালাহতে একটি বেকারি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা ছিল।
দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়
গাজায় তীব্র খাদ্য সংকটের কারণে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুজন শিশু। ২০২৩ সাল থেকে অনাহারে মৃতের সংখ্যা এখন ১৩৩। এর মধ্যে পাঁচ মাস বয়সী শিশু জায়নাব আবু হালিবও রয়েছে, যে নাসের হাসপাতালে তীব্র অপুষ্টিতে মারা গেছে। শিশুটির মা ইসরা আবু হালিব বলেন, “তিন মাস হাসপাতালে থাকার পর আমি এটাই পেলাম।”
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজার প্রতি তিনজনের একজন খাদ্য ছাড়া দিন কাটাচ্ছে। প্রায় ৫ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মধ্যে রয়েছে, যার ২০ শতাংশ গর্ভবতী নারী। পুষ্টির অভাবে অনেক শিশু মায়ের দুধ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ
ইসরাইলের এই হামলা ও মানবিক বিপর্যয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, ইসরাইলি-আমেরিকান “গাজা হিউম্যানিটারি ফান্ড” (জিএইচএফ) এর খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা কার্যকর নয়। সংস্থাটি বলছে, যুদ্ধবিরতির সময় জাতিসংঘ ও ইউএনআরডব্লিউএ নিরাপদে ও ব্যাপকভাবে খাদ্য সরবরাহ করতে সক্ষম ছিল।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পরও থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাত অব্যাহত
ইউএনআরডব্লিউএ-এর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি গাজার পরিস্থিতিকে “পৃথিবীর নরক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলো “স্যাডিস্টিক মৃত্যুফাঁদ” হয়ে উঠেছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































