গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার-newsedge24

সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গের নেতৃত্বে গাজার অবরোধ ভাঙতে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে একটি বিশাল সমুদ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। গত রবিবার (৩১ আগস্ট) স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে ৪৪টি দেশের ৭০টিরও বেশি জাহাজ নিয়ে এই বহর যাত্রা শুরু করে। ফ্লোটিলার লক্ষ্য গাজার অবরুদ্ধ জনগণের কাছে খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

এই অভিযানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী, পরিবেশকর্মী, ডাক্তার, আইনজীবী, পার্লামেন্ট সদস্য, শিক্ষার্থী এবং ক্রীড়াঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা অংশ নিয়েছেন। ফ্লোটিলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৪ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য বন্দর থেকে আরও কয়েক ডজন জাহাজ এই বহরে যুক্ত হবে। বার্সেলোনা বন্দরে যাত্রার শুরুতে হাজার হাজার মানুষ প্যালেস্টাইনের পতাকা নেড়ে এবং “ফ্রি প্যালেস্টাইন” স্লোগান দিয়ে বহরকে বিদায় জানান।

যাত্রার পথে জেনোয়া, তিউনিস এবং গ্রিস থেকে আরও জাহাজ বহরে যোগ দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বহর তিউনিসিয়া, লিবিয়া এবং মিসরের আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগে গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। সবশেষে মরিশাস থেকেও একাধিক ত্রাণবাহী জাহাজ এই বহরে যুক্ত হয়েছে।

এই ফ্লোটিলায় গ্রেটা থানবার্গ ছাড়াও অংশ নিয়েছেন ‘গেম অব থ্রোনস’ খ্যাত অভিনেতা লিয়াম কানিংহাম, সাবেক বার্সেলোনা মেয়র আদা কোলাউ, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান এবং প্যালেস্টাইনি-আমেরিকান আইনজীবী হুয়াইদা আরাফ। আয়োজকরা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংহতি অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে ৪৪টি দেশের মানুষ একত্রিত হয়ে গাজার অবরোধ ও চলমান সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

তবে, এই অভিযানের পথে চ্যালেঞ্জ কম নয়। ইসরায়েল ২০০৭ সাল থেকে গাজার উপর স্থল, সমুদ্র এবং আকাশপথে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। জুন মাসে গ্রেটা থানবার্গের নেতৃত্বে ‘মাদলিন’ নামে একটি জাহাজ গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল, কিন্তু ইসরায়েলি নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজটি আটক করে এবং থানবার্গসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। এবারও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফ্লোটিলার জাহাজ আটক এবং অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ সংস্থার প্রতিবেদন: গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে

গ্রেটা থানবার্গ এই অভিযানের আগে বলেছেন, “আমরা এটি করছি কারণ, আমরা যতই বিপদের মুখে থাকি না কেন, মানবতা হারানোর মুহূর্তে আমাদের চেষ্টা থামানো যাবে না।” তিনি গাজার চলমান মানবিক সংকট এবং অবরোধের বিরুদ্ধে বিশ্বের নীরবতার সমালোচনা করেছেন।

এই ফ্লোটিলার মাধ্যমে গাজায় খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা ইতোমধ্যে গাজায় তীব্র খাদ্যাভাব এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *