সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের কথিত হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
শাহবাজ শরিফ হামলাটিকে ‘জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে। পাকিস্তান সবসময় সৌদি আরবের পাশে থাকবে বলে তিনি আবারও জোর দিয়েছেন।
শনিবারের এ হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বিমানবন্দর এলাকায় হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সৌদি কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর এ ধরনের আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
গত আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এ চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশ নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিন আগেই ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। সে সময়ও পাকিস্তান সৌদির পাশে দাঁড়িয়েছিল।
শাহবাজ শরিফের এ বার্তা আঞ্চলিক রাজনীতিতে পাকিস্তানের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা শুধু সে দেশের বিষয় নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও নিন্দনীয়।
আরও পড়ুন: সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। প্রয়োজনে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তার বার্তায় আবারও জোর দিয়েছেন যে, পাকিস্তান সবসময় সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান নেবে।
এ হামলার পর আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হুতিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড উপসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট অবস্থান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বেসামরিক জনগণের জানমাল রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































