ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে লাখো শোকাহত মানুষ সমবেত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে শোকের আবহ নেমে আসে। হাতে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও সাদা ফুল নিয়ে হাজারো মানুষ প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানান।

রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লায় কাচের কফিনে রাখা খামেনির মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করা হলে সেখানে মানুষের ঢল নামে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে অনেকে বুকে আঘাত করে মাতম করেন এবং অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ শ্রদ্ধা জানান। নারীদের বিলাপ ও শোকের আবহে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শোকাহত জনতা একসঙ্গে ‘প্রতিশোধ! প্রতিশোধ!’ স্লোগান দেন। তাদের দাবি, খামেনির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

এদিকে রয়টার্সের সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, যান চলাচল বন্ধ থাকা সড়কজুড়ে হাজার হাজার মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। অনেক নারীকে সাদা ফুলের তোড়া হাতে এবং অনেককে ব্যানার বহন করতে দেখা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বিলবোর্ডেও খামেনির ছবি প্রদর্শন করা হয়।

প্রচণ্ড গরমে শোকাহত মানুষের স্বস্তির জন্য আয়োজকরা পানি ছিটিয়ে পরিবেশ শীতল রাখার ব্যবস্থা করেন। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তেহরানে এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। জানাজায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ কালো পোশাক পরেছিলেন।

২৭ বছর বয়সী হানানেহ মুসাভি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, “আমি আমার প্রিয় নেতা আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছি। জীবনে এমন একটি দিন দেখতে হবে, কখনো কল্পনাও করিনি। এই ট্র্যাজেডির আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, সেটাই ভালো হতো।”

অন্যদিকে, তাবরিজ থেকে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেহরানে আসা আলী কাজেমি বলেন, “আমরা এই জানাজায় অংশ নিয়েছি এটা দেখানোর জন্য যে, আমরা সবাই আমাদের দেশ ও ধর্ম রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা লাখো মানুষের পাশাপাশি বিদেশি প্রতিনিধি ও অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

1 comment on “তেহরানে খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের ঢল”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *