সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আজ তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হচ্ছে। এই আলোচনার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র অভূতপূর্ব সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় মোতায়েন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এর আওতাধীন অঞ্চলে বর্তমানে ৩০০-এর বেশি মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে। এসব বিমান প্রধানত কাতারের আল-উদেইদ এয়ার বেস , জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেস এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস (Prince Sultan Air Base)-এ অবস্থান করছে। এছাড়া ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড (USS Gerald R. Ford) বিমানবাহী রণতরীতে ক্যারিয়ার এয়ার উইংস মোতায়েন রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোতায়েনকৃত বিমানের মধ্যে ৭০ শতাংশ আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান (যেমন F/A-18, F-16, F-35, F-22 ইত্যাদি)। বাকি ৩০ শতাংশ সহায়ক ও বিশেষায়িত বিমান, যার মধ্যে রয়েছে ১৮টি EA-18G Growler (ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান) ১২টি A-10C Thunderbolt II (ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট) ৫টি E-11A Battlefield Airborne Communications Node (BACN) এবং ৬টি E-3 Sentry AWACS (এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম)। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এই বিমানবহর গড়ে তোলার জন্য প্রায় ২৭০টি C-17 ও C-5 লজিস্টিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া প্যাট্রিয়ট ও THAAD মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হয়েছে।
এই সামরিক মোতায়েনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি ও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য ‘ডিটারেন্স’ হিসেবে দেখছে। ট্রাম্পের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি বলেছেন, কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে চান, কিন্তু ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আলোচনায় নতুন প্রস্তাব দেওয়া হবে এবং সম্মানজনক কূটনীতির মাধ্যমে চুক্তি সম্ভব।
আরও পড়ুন: তুরস্কে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: পাইলট নিহত
আলোচনা ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে চলছে। প্রথম দফা ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে, দ্বিতীয় দফা ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই তৃতীয় দফায় ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যর্থ হলে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে





















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































