ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান শুরু না করার জন্য মোদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একটি ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পাকিস্তান একটি বড় সেনাবাহিনী সম্বলিত দেশ। আমার বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছি, তাদের কাছে আধুনিক ও উন্নত অস্ত্র রয়েছে। আমি মনে করি না যে, সরকারকে আর কোনো সামরিক অ্যাডভেঞ্চারে জড়ানো উচিত।” এই খবর প্রকাশ করেছে পাকিস্তানভিত্তিক গণমাধ্যম অনলাইন জিও নিউজ।
থারুর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আমি যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে স্বাগত জানাই। এটি সঠিক পথে এগোনোর সূচনা। তবে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করতে সময় লাগবে।” তিনি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পক্ষে জোর দেন এবং বলেন, “যেসব পরিবার দুই দেশের সীমান্তে বিভক্ত, তাদের পুনর্মিলনের সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি চাই আরও বেশি ভিসা ইস্যু হোক এবং মানুষে-মানুষে বিনিময় বাড়ানো হোক।”
তিনি মনে করেন, যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং শান্তি, মানবিকতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াই হতে পারে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এই মন্তব্য তিনি এমন এক সময়ে করেছেন, যখন ১০ মে ২০২৫-এ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তি চার দিনের উত্তেজনা, ড্রোন হামলা এবং সীমান্তে গোলাগুলির পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়।
থারুর আরও বলেন, ভারত একটি ‘স্ট্যাটাস কোয়ো’ শক্তি, যারা পাকিস্তানের কোনো অংশ দখলের ইচ্ছা রাখে না। তিনি পাকিস্তানকে একটি ‘রিভিশনিস্ট’ শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন, যারা ভারতের কাশ্মীর অঞ্চল দাবি করে এবং ধর্মীয় ভিত্তিতে ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করে। তিনি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করে বলেন, তারা দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জন্য কিছুই করেনি, বরং বিদ্যুৎ, খাদ্য ও পানির ঘাটতির মতো সমস্যা বাড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, থারুরের বক্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি মোদি সরকারের অপারেশন সিন্দুরের (পাকিস্তানে সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা) প্রশংসা করলেও, বিজেপির একাংশ তার সমালোচনা করেছে। বিজেপি নেতা অমিত মালভিয়া তাকে ‘মোদির ভক্ত’ বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের অভ্যন্তরে থারুরের এই মন্তব্য কিছুটা বিতর্ক তৈরি করেছে, কারণ দলটি পাহলগাম হামলার জন্য সরকারের নিরাপত্তা ব্যর্থতার সমালোচনা করেছিল।
থারুরের এই শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভবিষ্যৎ উত্তেজনা নির্ভর করবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে চীনের মাধ্যমে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।














































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































