সিরিয়া-newsedge4

যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সিরিয়ার ওপর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস মঙ্গলবার (২০ মে, ২০২৫) ঘোষণা করেন, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠনে সহায়তা করা এবং দেশটির জনগণের পাশে দাঁড়ানো। কাল্লাস এক্সে লিখেছেন, “আমরা চাই সিরিয়ার জনগণ একটি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শান্তিপূর্ণ সিরিয়া গড়ে তুলুক। গত ১৪ বছর ধরে আমরা তাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

ইইউ’র এই নীতিগত পরিবর্তন এমন এক সময়ে এলো, যখন সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ গত ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন এবং দেশটি হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে রয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি ইইউ’র এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করবে।”

২০১২ ও ২০১৩ সালে সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত জ্বালানি, পরিবহন এবং ব্যাংকিং খাতকে লক্ষ্য করে ছিল। ইইউ কূটনীতিকদের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে সিরিয়ার ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হতে পারবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদের ওপর জব্দাদেশ তুলে নেওয়া হবে। তবে, ইইউ সতর্ক করে বলেছে, সম্প্রতি সংখ্যালঘু আলাওয়িত সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

এছাড়া, আসাদ সরকারের আমলে জারি থাকা অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা এবং দমনমূলক সরঞ্জাম রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এক বিবৃতিতে বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিরিয়ার সঙ্গে একটি নতুন সূচনা চায়, তবে আমরা আশা করি, দেশটি তার সব ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সহনশীল নীতি গ্রহণ করবে। একত্রিত সিরিয়া যেন তার ভবিষ্যৎ নিজেই নির্ধারণ করতে পারে—সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

২০১১ সাল থেকে সিরিয়া গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত। বাশার আল-আসাদের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছিল। ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি, পরিবহন এবং ব্যাংকিং খাতে নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। এবার সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। তবে, নতুন নেতৃত্ব যদি সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইইউ।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লিয়েন গত ডিসেম্বরে বলেছিলেন, সিরিয়ায় শাসন পরিবর্তন “সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও সৃষ্টি করেছে।” সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পালনের শর্তে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিরিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন এবং স্থিতিশীলতার জন্য এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *