জেনারেল অনিল চৌহান-newsedge24

ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান শনিবার (৩১ মে) সিঙ্গাপুরে শাংরি-লা সংলাপে ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে, মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘর্ষে ভারত কয়েকটি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। তবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সংখ্যা উল্লেখ করেননি। তিনি পাকিস্তানের দাবি—যে তারা ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান (তিনটি রাফালসহ) ভূপাতিত করেছে—‘একেবারে ভুল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

জেনারেল চৌহান বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিমান ভূপাতিত হওয়া নয়, বরং কেন ভূপাতিত হয়েছে। আমরা কৌশলগত ভুল শনাক্ত করে দুই দিনের মধ্যে তা সংশোধন করেছি এবং পাকিস্তানের গভীরে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছি।” তিনি জানান, ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে এক মিটারের মধ্যে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

সংঘর্ষটি ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর শুরু হয়। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বাকে দায়ী করে। ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে ক্রুজ মিসাইল ও রাফাল বিমান ব্যবহার করে পাকিস্তানের ৯টি স্থানে হামলা চালায়, যা তারা দাবি করেছে সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে। পাকিস্তান অবশ্য জানায়, এই হামলায় বেসামরিক এলাকা ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাকিস্তান ৭ মে পুঞ্চে মর্টার হামলা চালায়, যাতে ১৬ জন বেসামরিক নাগরিক ও একজন ভারতীয় সেনা নিহত হন। এছাড়া ৩১টি স্কুল, একটি শিখ গুরুদ্বারাসহ শতাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়। ১০ মে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান-উল-মারসুস’ নামে ভারতীয় সামরিক ঘাঁটিতে পালটা হামলা চালায়। এই সংঘর্ষ ছিল দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে প্রথম ড্রোন যুদ্ধ। ১০ মে দুই দেশের সামরিক পরিচালকদের হটলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

চৌহান জানান, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো আশঙ্কা ছিল না এবং উভয় পক্ষই যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রেখেছিল। তিনি বলেন, “প্রচলিত সামরিক অভিযান ও পারমাণবিক সীমার মধ্যে অনেক ফারাক রয়েছে। এটাই নতুন নিয়ম হবে।” তিনি পাকিস্তানের চীন-সরবরাহিত অস্ত্রের কার্যকারিতার দাবিও নাকচ করে বলেন, “এগুলো কাজ করেনি।”

এক্স প্ল্যাটফর্মে এই সংঘর্ষ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ পাকিস্তানের দাবি—যে তারা পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে—তুলে ধরেছেন, তবে এই দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই হয়নি। অন্যদিকে, কেউ কেউ ভারতের পক্ষে অপারেশন সিন্দুরকে সফল বলে উল্লেখ করেছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষণা দল জানায়, চীন পাকিস্তানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্যাটেলাইট সহায়তা দিয়েছে। তবে চৌহান বলেন, এই সহায়তা কার্যকর ছিল না। ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে।

জেনারেল চৌহান জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে পাকিস্তান থেকে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে ভারত “নির্ভুল ও কঠোর” জবাব দেবে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের লাল রেখা পরিষ্কার করে দিয়েছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *