ইরান পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সিল্ক রোড উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগ অঞ্চলভিত্তিক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পারস্পরিক লাভের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবরটি প্রকাশ করেছে অনলাইন জিও নিউজ। রবিবার (৩ আগস্ট) ইসলামাবাদে এক যৌথ বৈঠকে এ ঘোষণা আসে। বৈঠকে ইরানের রোডস অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রী ফারজানে সাদেগ উপস্থিত ছিলেন, যিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সফরসঙ্গী হিসেবে পাকিস্তান সফর করছেন।
বৈঠকে পাকিস্তানের যোগাযোগমন্ত্রী আবদুল আলিম খান, বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান এবং রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি অংশ নেন। আলোচনায় দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করা এবং যোগাযোগ, রোড নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইরান এ সময় চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সিল্ক রোড উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং গোয়াদার-চাবাহার নৌপথের মাধ্যমে সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করে।
আবদুল আলিম খান ইরানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং এটিকে মুসলিম বিশ্বের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান ও ইরান সবসময় একে অপরের পাশে থেকেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আমাদের আরও কাছাকাছি এনেছে।” তিনি ইরানি মন্ত্রীকে ২৩-২৪ অক্টোবর পাকিস্তানে আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানান, যেখানে ২০টি দেশের মন্ত্রীদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত।
আরও পড়ুন: ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কি টেকসই হবে ?
ইরানি মন্ত্রী ফারজানে সাদেগ ইসরাইলবিরোধী অবস্থানে পাকিস্তানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং পাকিস্তানের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। তিনি কোয়েটা-জাহেদান সড়কপথ আধুনিকায়ন এবং দুই দেশের সীমান্তে চলমান যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আবদুল আলিম খান দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন, যাতে সমঝোতা বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো যায়। বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান জানান, বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে এবং উভয় দেশ একে অপরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার হতে পারে।
পাকিস্তান ও ইরান ১২টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই করেছে, যা বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের উপস্থিতিতে এই চুক্তিগুলোর দলিল বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। শেহবাজ শরিফ জানান, দুই দেশ ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































