পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ৩২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৩০৭ জন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের, যেখানে বেশিরভাগ মৃত্যু ঘটেছে বন্যা ও ঘরবাড়ি ধসে। এছাড়া পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ৯ জন এবং গিলগিট-বালতিস্তানে ৫ জন মারা গেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃতদের মধ্যে ১৫ জন নারী ও ১৩ জন শিশু রয়েছেন, এবং কমপক্ষে ২৩ জন আহত হয়েছেন।
প্রাদেশিক উদ্ধার সংস্থার মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফয়েজি জানান, প্রায় ২,০০০ উদ্ধারকর্মী ৯টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস, এবং রাস্তাঘাট ধ্বংসের কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ও অ্যাম্বুলেন্স পরিবহনে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকর্মীরা পায়ে হেঁটে দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছাচ্ছেন।
ফয়েজি আরও বলেন, “বেঁচে থাকা মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, কিন্তু স্বজনদের মৃত্যু বা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার কারণে অনেকে স্থানান্তরে রাজি হচ্ছেন না।” উদ্ধারকারীরা ৩,৫০০ জনেরও বেশি পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে, যারা বন্যা-আক্রান্ত এলাকায় আটকা পড়েছিলেন।
প্রাদেশিক সরকার খাইবার পাখতুনখোয়ার বুনের, বাজাউর, সোয়াত, শাংলা, মানসেহরা, এবং বাটগ্রাম জেলাকে দুর্যোগ কবলিত এলাকা ঘোষণা করেছে। বুনেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে, যেখানে কয়েক ডজন মৃত্যু ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, শুক্রবার একটি ত্রাণ হেলিকপ্টার খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিধ্বস্ত হয়ে ৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে দুজন পাইলট ছিলেন।
আরও পড়ুন: উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ৪ জন নিহত, নিখোঁজ ১০০
পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য আগামী কয়েক ঘণ্টার জন্য ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে এবং জনগণকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এনডিএমএ-র প্রতিনিধি সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ জানান, এ বছর মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় আগে শুরু হয়েছে এবং আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। আগামী ১৫ দিনে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
পাকিস্তান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। এ বছর গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বৃষ্টিপাত “অস্বাভাবিক” হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় পাঞ্জাবে ৭৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। ২০২২ সালের মৌসুমি বন্যায় দেশের এক-তৃতীয়াংশ প্লাবিত হয়ে প্রায় ১,৭০০ জন নিহত হয়েছিল।













































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































