শিকাগোতে-chicago-newsedge24

যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন শিকাগোতে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অপরাধ, গৃহহীনতা এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দমনে এই উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শিকাগোকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে নিউ ইয়র্ক শহরও নজরে রয়েছে বলে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে অপরাধ এবং অবৈধ অভিবাসন ক্রমশ বাড়ছে, যা রোধে সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিকাগোতে ন্যাশনাল গার্ডের কয়েক হাজার সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে। গত জুনে লস অ্যাঞ্জেলসে ট্রাম্প প্রশাসন ৪,০০০ ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ড সদস্য এবং ৭০০ সক্রিয় মেরিন সেনা মোতায়েন করেছিল, যা স্থানীয় নেতাদের তীব্র প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভের মুখে সম্পন্ন হয়। শিকাগোতেও অনুরূপ পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিকাগোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসনকে ‘অযোগ্য’ বলে সমালোচনা করে বলেন, “শহরের মেয়র যে অরাজকতা তৈরি করেছেন, তা কল্পনাতীত। আমরা তা ঠিক করে দেব।” পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে এখনই কিছু বলছি না। তবে সরকারি সম্পত্তি ও কর্মীদের সুরক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ইলিনয় প্রদেশের গভর্নর জেবি প্রিটজকার এবং শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তারা এটিকে ‘অযাচিত’ এবং ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জনসন দাবি করেছেন, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শিকাগোতে হত্যাকাণ্ড ৩০ শতাংশ, ডাকাতি ৩৫ শতাংশ এবং গুলিবর্ষণ ৪০ শতাংশ কমেছে।

এদিকে, ইলিনয় গভর্নর জেবি প্রিটজকার জানিয়েছেন, ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহায়তার প্রস্তাব বা আলোচনা তাঁরা পাননি। তিনি বলেন, “ট্রাম্প কোনো জরুরি পরিস্থিতি ছাড়াই সামরিক বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছেন।”

ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ বলে মনে করছেন অনেকে। এর আগে ওয়াশিংটন ডিসি এবং লস অ্যাঞ্জেলসে সামরিক মোতায়েনের ঘটনা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিকাগোতে এ ধরনের পদক্ষেপ আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *