থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা আদালতের রায়ের আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি ব্যক্তিগত জেটে করে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে প্রথমে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেন, কিন্তু ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী তার বিমান দুবাইয়ের দিকে যাত্রা করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে থাকসিনের কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এ কারণে থাইল্যান্ডের অনেকেই তার ফ্লাইটের গতিবিধি নজরে রেখেছিলেন, ধারণা করে যে তিনি যেকোনো সময় পালিয়ে যেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার ডন মুয়াং বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। থাকসিন দাবি করেন, তিনি সিঙ্গাপুরে মেডিকেল চেকআপের জন্য যাচ্ছিলেন, কিন্তু ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দেরি করানোর কারণে সিঙ্গাপুরের সেলেটার বিমানবন্দরে রাত ১০টার পরে অবতরণ সম্ভব হয়নি। ফলে তিনি দুবাইয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে তার নিয়মিত চিকিৎসক রয়েছেন।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, থাকসিনের দেশত্যাগে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তাই তাকে আটকানো হয়নি। তবে তার এই পদক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, সিঙ্গাপুরের নাম করে তিনি দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে গেছেন, যেখানে তিনি ২০০৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত নির্বাসিত জীবনযাপন করেছিলেন।
থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে তার সরকার উৎখাত হয় এবং তিনি লন্ডন ও দুবাইয়ে নির্বাসিত জীবনযাপন শুরু করেন। ২০০৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার জন্য তিনি দেশে ফিরে আসেননি। তবে, ২০২৩ সালে তিনি থাইল্যান্ডে ফিরে এসে দুর্নীতির মামলায় আট বছরের সাজা পান, যা রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে এক বছরে কমিয়ে আনা হয়। তিনি কারাগারে না থেকে হাসপাতালে ছয় মাস কাটিয়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারোলে মুক্তি পান।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন ক্ষমতাচ্যুত হলেন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিনের পরিবার থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী। তার দল ফিউ থাই এবং এর পূর্বসূরি থাই রাক থাই ২০০১ সাল থেকে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। তার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার কন্যা পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে গত আগস্টে কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে একটি ফাঁস হওয়া ফোন কলের কারণে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পায়েতংতার্নকে পদচ্যুত করা হয়।
থাকসিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে থাইল্যান্ডে ফিরে ৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে উপস্থিত হবেন। তবে তার এই পদক্ষেপ অনেকের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































