বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা, সরকারপ্রধান এবং কূটনৈতিক মিশনগুলো পৃথক শোকবার্তায় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।
ভারত: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার দুই দেশের অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে।” তিনি ২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, দীর্ঘ জনজীবনে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক যাত্রায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গভীর শোক প্রকাশ করেন।
পাকিস্তান: প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পৃথক শোকবার্তায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, তার নেতৃত্ব ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে তার ভূমিকা স্মরণীয় এবং এই শোকের মুহূর্তে পাকিস্তানের জনগণ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও শোক প্রকাশ করেন।
চীন: প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন শোক জানান। লি চিয়াং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো বার্তায় বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিক ও চীনা জনগণের পুরনো বন্ধু। তার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে চীন-বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব গড়ে ওঠে। ওয়াং ই বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদানকে চীন উচ্চ মূল্য দেয়। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তারেক রহমানকে পাঠানো বার্তায় তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বিএনপির সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার কথা জানান।
জাপান: ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাপান গভীরভাবে শোকাহত। তার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে দুইবার জাপান সফর দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে শক্তিশালী করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বলেছে, বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস নির্মাণে খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। যুক্তরাজ্য হাই কমিশন তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শোক
ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ: ঢাকায় জার্মান দূতাবাস বলেছে, দীর্ঘ জনজীবনে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া পৃথকভাবে শোক প্রকাশ করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস তার আত্মার শান্তি কামনা করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































