নাইজারের রাজধানী নিয়ামের দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে আকস্মিক প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মাঝরাতের পর শুরু হওয়া এই সংঘাত কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী ছিল।
পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলেও এই ঘটনা দেশটিতে অভ্যুত্থান-পরবর্তী নিরাপত্তার ঝুঁকি ও নতুন অস্থিরতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে বিমানবন্দরের রাতের আকাশে আগুনের ঝলকানি এবং বেশ কয়েক মিটার উঁচু লেলিহান শিখা দেখা গেছে। ভোরে অনেক পুড়ে যাওয়া গাড়ি এবং বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষও নজরে এসেছে।
দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাজধানী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে নাইজারের বিমান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। গোলাগুলি শুরুর পরপরই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির সাইরেন শোনা যায় এবং সেগুলো বিমানবন্দরের দিকে দ্রুত ছুটতে দেখা যায়।
তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নিশ্চিত হয়নি এবং সামরিক জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে নাইজার জেনারেল আবদুরাহমান তিয়ানির নেতৃত্বাধীন সামরিক জান্তা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তারা ২০২৩ সালে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। দিওরি হামানি বিমানবন্দর নাইজার, বুর্কিনা ফাসো এবং মালির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর সদর দপ্তর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এই তিনটি দেশই বর্তমানে সামরিক শাসনের অধীনে এবং তারা একত্রে ‘অ্যালায়েন্স অফ সাহেল স্টেটস’ (AES) নামক জোট গঠন করেছে।
গত কয়েক বছর ধরে সাহেল অঞ্চলে উগ্রপন্থী জিহাদি গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘাত ও সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি (ACLED)-এর তথ্য অনুসারে, কেবল ২০২৫ সালেই নাইজারে জিহাদি সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দরের এই বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি কেবল অভ্যন্তরীণ সামরিক কোন্দল নয়, বরং জিহাদি হামলা বা কৌশলগত কোনো অভিযানের অংশ হতে পারে। বিশেষ করে গত নভেম্বর থেকে ইউরেনিয়ামের একটি বিশাল চালান অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও তা কয়েক সপ্তাহ ধরে এই বিমানবন্দরেই আটকে ছিল।
আরও পড়ুন: বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ নিহত ৫
সামরিক শাসনের সমর্থক ইব্রাহিম বানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ রক্ষায় জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে বিতাড়িত করার পর নাইজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি নিজেদের এবং প্রতিবেশী জান্তা সরকারগুলোর ওপর নির্ভরশীল, যা এ ধরনের সহিংসতায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































