পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে আজ রোববার সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনী বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোটকেন্দ্রগুলো খোলা হয়েছে এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। খবর বিবিসি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।
দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আগাম ভোটে ইতোমধ্যে ২২ লাখের বেশি ভোটার অংশ নিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ৫ কোটি ৩০ লাখ। ৫০০ আসনের সংসদে ৫০টিরও বেশি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কার্যত তিনটি দল—পিপলস পার্টি, ভূমজাইথাই এবং ফেউ থাই—সরকার গঠনের সম্ভাব্য ক্ষমতা ধরে রেখেছে।
জরিপে দেখা যাচ্ছে, কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোট সরকার গঠন প্রায় নিশ্চিত। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করবেন।
প্রধান দলগুলোর অবস্থান:
- পিপলস পার্টি (সংস্কারপন্থী): নাথাফং রুয়াংপানইয়াওয়ুতের নেতৃত্বে এগিয়ে রয়েছে। দলটির কর্মসূচিতে সামরিক বাহিনী ও আদালতের প্রভাব কমানো এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই কর্মসূচিকে গ্রহণযোগ্য মনে না করায় দলটিকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা হতে পারে।
- ভূমজাইথাই পার্টি: বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বে। রাজতন্ত্রপন্থী ও সামরিক সমর্থক শক্তির প্রধান রক্ষক হিসেবে পরিচিত। প্রচারে অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
- ফেউ থাই: সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার রাজনৈতিক ধারার উত্তরসূরী। অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। দলটি প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দিয়েছে থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াতকে।
একই দিনে সংবিধান সংশোধনী বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটারদের প্রশ্ন: ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না। গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো মনে করে, নতুন সংবিধান সামরিক ও বিচার ব্যবস্থার প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে রক্ষণশীলরা আশঙ্কা করছেন, এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন ক্ষমতাচ্যুত হলেন
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী ও রাজতন্ত্রের প্রভাব দীর্ঘদিনের। গত কয়েক দশকে একাধিকবার সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে। এবারের নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।














































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































