গাজায় ঈদুল আজহা-newsedge4

পবিত্র ঈদুল আজহা, মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শুক্রবার (৬ জুন) উদযাপিত হয়। কিন্তু এই উৎসবের দিনেও ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে, যাতে কমপক্ষে ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ ‘সিভিল ডিফেন্স’-এর একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, সকাল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক হামলায় ৩৮ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে উত্তর গাজার জাবালিয়ায় একটি হামলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, হাসপাতাল সূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪২।

খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহর পশ্চিম ও উত্তরে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণে সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ শুক্রবার গাজায় সব ধরনের ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, এই বিতর্কিত ফাউন্ডেশনের ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত ১১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজার বাসিন্দাদের জন্য এটি টানা দ্বিতীয় ঈদুল আজহা যা ইসরায়েলি হামলার মধ্যে কাটছে। ঈদের দিন যুদ্ধে নিহত শিশুদের কবরে গিয়ে মায়েদের আহাজারি করতে দেখা গেছে। উম্মে আহমদ আউয়িদা নামে একজন মা তাঁর শিশুকন্যার কবরের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে রয়টার্সকে বলেন, “আমরা টানা দ্বিতীয় ঈদুল আজহা উদযাপন করছি বোমা, বিমান হামলা, মৃত্যু, অবরোধ ও ক্ষুধার মধ্য দিয়ে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের সঙ্গে অনেক কিছু ত্যাগ করেছি, আমরা আমাদের ঘরবাড়ি ও নিজেদের হারিয়েছি, আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”

এই হামলার ঘটনাগুলো গাজায় চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ সত্ত্বেও, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা এই অঞ্চলের জনগণের জন্য ঈদের আনন্দকে বিষাদে পরিণত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *