হামাস-গাজায়-যুদ্ধবিরতি-প্রস্তাব-newsedge24

হামাস গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যার আওতায় তাদের হাতে থাকা প্রায় ২০ জন জীবিত ইসরাইলি জিম্মির অর্ধেক মুক্তি দেওয়া হবে এবং ধাপে ধাপে যুদ্ধের সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২২ মাসের যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬২,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কায়রোতে হামাস, মিশর ও কাতারের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার ভিত্তিতে এই প্রস্তাব সামনে এসেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৬০ দিনের জন্য সামরিক অভিযান স্থগিত থাকবে এবং ইসরাইলি জিম্মিদের অর্ধেক মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। মিশরীয় সূত্র জানিয়েছে, এটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথে একটি সুযোগ। তবে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইল আংশিক চুক্তিতে আগ্রহী নয়। তিনি দাবি করেছেন, হামাসকে সব জিম্মি একসঙ্গে মুক্তি দিতে হবে, অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং গাজার সামরিকীকরণ তুলে নিতে হবে।

গত রোববার ইসরাইলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চার লাখের বেশি মানুষ জিম্মিদের মুক্তির জন্য চুক্তির দাবি জানান। নেতানিয়াহু এই বিক্ষোভের সমালোচনা করে বলেন, এটি হামাসকে আলোচনায় শক্ত অবস্থান নিতে সহায়তা করছে। তবে, সংগঠকরা জানিয়েছেন, আগামী রোববার আরও বিক্ষোভ হবে।

আরও পড়ুন: চলমান সংঘাতে অর্থনৈতিক সংকটে ইসরাইল

নেতানিয়াহুর গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এই অভিযান জিম্মিদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। গাজায় দুর্ভিক্ষ ও গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।

সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, হামাসকে মুখোমুখি হতে ও পরাজিত করতে হবে। তবে, ইসরাইলের জনগণ যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্ত এবং জিম্মিদের মুক্তি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ। আরব মধ্যস্থতাকারীরা এই আলোচনাকে মার্কিন প্রস্তাবিত কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখছেন। আগামী দিনগুলোতে এই প্রস্তাবের ফলাফল গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *