টিউলিপ সিদ্দিক-newsedge24

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সাবেক দুর্নীতিবিরোধী প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার বিষয়ে মিথ্যা বক্তব্যের অভিযোগে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, টিউলিপের দাবির সত্যতা নেই,বরং তিনি সচেতনভাবে মিথ্যাচার করেছেন। এ ঘটনা লেবার পার্টিকে এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে নতুন চাপের মুখে ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত দৈনিক ডেইলি মেইলে প্রকাশিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশি নাগরিকত্বের সুবিধা গ্রহণ করেও নিজেকে ‘শুধু ব্রিটিশ’ বলে দাবি করে আসছেন। বাংলাদেশের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ডাটাবেস অনুসারে, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে টিউলিপের নামে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়, যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।

এছাড়া, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে তাকে বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান করা হয় এবং তিনি বাংলাদেশের একজন নিবন্ধিত ভোটার। এসব তথ্য টিউলিপের পূর্বের অস্বীকারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি অভিবাসী মা-বাবার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি বারবার দাবি করেছেন যে, তিনি ব্রিটিশ নাগরিক এবং বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র নেই।

২০১৭ সালে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আপনি কি আমাকে বাংলাদেশি বলছেন? আমি ব্রিটিশ, সাবধানে বলুন। আমি ব্রিটিশ এমপি, আমি বাংলাদেশি নই।” এবং চলতি বছরের ১২ আগস্ট যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তার আইনি প্রতিনিধি জানান, “টিউলিপ কখনো বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি পাননি এবং শৈশবের পর থেকে কোনো পাসপোর্টও রাখেননি।”

এই মিথ্যা বক্তব্যের অভিযোগ টিউলিপের জন্য নতুন নয়। গত জানুয়ারিতে ডেইলি মেইলে ‘বাংলাদেশে দুর্নীতি মামলায় টিউলিপের নাম’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তিনি দুর্নীতিবিরোধী প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, টিউলিপ, তার মা রেহানা এবং দুই ভাই-বোনের বিরুদ্ধে ঢাকার পূর্বাঞ্চলে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে মামলা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সেই সময়ও টিউলিপ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

ডেইলি মেইলের পাশাপাশি এই ইস্যুতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস, দ্য এক্সপ্রেস এবং স্কাই নিউজসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম। এসব প্রতিবেদন লেবার পার্টির ভাবমূর্তি এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের উপর প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুন: ‘অন্যায়কারীদের বিচার হোক, আমি তাদের কেউ নই’: টিউলিপ সিদ্দিক

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা লেবার সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যেখানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টিউলিপের আত্মীয়তার কথা উঠে আসে। লেবার পার্টি এখনও এই অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়ে ওঠেনি। তবে এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *