বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন এক বৈশ্বিক মঞ্চ ‘বোর্ড অব পিস’ (শান্তি পর্ষদ) এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাইডলাইনে এক জমকালো অনুষ্ঠানে তিনি এই পর্ষদের চার্টার স্বাক্ষর করেন। তবে অনুষ্ঠানের সব আকর্ষণ কেড়ে নিয়েছে ইরান সম্পর্কে তার একটি ইতিবাচক মন্তব্য। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী এবং ওয়াশিংটনও এই কূটনৈতিক সুযোগ গ্রহণে পুরোপুরি প্রস্তুত.
দাভোসের এই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরান এখন আলোচনার টেবিলে ফিরতে চায়। তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী এবং আমরাও তাদের সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমরা চাই শান্তি, আমরা চাই চুক্তি।” দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনার পর ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের মোড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। তবে এখন সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতির পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। তার ভাষায়, “ইরান আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে এবং আমরা সেই আহবানে সাড়া দিতে দ্বিধা করবো না।”
মূলত গাজা পুনর্গঠন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য এই ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে দাভোসে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এর পরিধি কেবল গাজায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক সালিশি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।
বোর্ড অব পিস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
- সদস্যপদ: এই পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হতে আগ্রহী দেশগুলোকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ১ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিতে হবে।
- নেতৃত্ব: ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই পর্ষদের আজীবন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
- সদস্য দেশ: ইতোমধ্যে বাহরাইন, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর এবং পাকিস্তানসহ প্রায় ৩৫টি দেশ এই পর্ষদে যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
- মূল ব্যক্তিত্ব: পর্ষদের নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফ্রান্স, নরওয়ে এবং ব্রিটেনের মতো দেশগুলো এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি। তাদের আশঙ্কা, এই পর্ষদ গঠন করার মাধ্যমে ট্রাম্প কার্যত জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে একটি সমান্তরাল বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প নিজেও এক মন্তব্যে বলেছেন, “এই বোর্ড এমন কাজ করে দেখাবে যা জাতিসংঘ গত ৮০ বছরেও করতে পারেনি।”

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































