জন ফেলান-newsedge24

ইরান ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে নৌমন্ত্রী (নেভি সেক্রেটারি) জন ফেলানকে অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) তাকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়েই জন ফেলানকে পদ হারাতে হয়েছে। এর পেছনে প্রধানত দুটি কারণ উঠে এসেছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী স্টিফেন ফেইনবার্গের সঙ্গে ফেলানের শীতল সম্পর্ক।  ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী পেন্টাগনের জেনারেল ও অ্যাডমিরালরা ‘ওক’ (Woke) বা অতি-উদারপন্থী কি না, তা যাচাই করতে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চেক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হেগসেথ। এই প্রক্রিয়ায় তাল মেলাতে ব্যর্থ হন ফেলান।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হয়েও রক্ষা মেলেনি জন ফেলান ছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। ট্রাম্পের নামানুসারে বিশালাকৃতির যুদ্ধজাহাজ তৈরির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ (Golden Fleet) বা ‘ট্রাম্প-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ প্রকল্পের প্রধান কারিগর ছিলেন তিনি। এই ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণে তিনি টিকতে পারলেন না।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র নৌ-অবরোধ এবং হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। এই সংকটকালীন সময়ে নৌবাহিনীর শীর্ষপদে এমন রদবদলকে ‘বিপজ্জনক’ এবং ‘অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে দেখছেন বিরোধীরা। তারা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ব্যর্থতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *