হরমুজ প্রণালী-01079-NewsEdge24

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। টানা ১৪তম দিনের মতো উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ওমানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে। এই সফর চলমান দ্বিপক্ষীয় পরামর্শের অংশ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনায় কী প্রস্তাব বা পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেহরান বলে আসছে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় তারা আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এ ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। হরমুজ প্রণালির প্রবেশ ও প্রস্থানের মুখে অবস্থান হওয়ায় ওমান দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক বিরোধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটি একদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ধরে রেখেছে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও বাণিজ্যের জন্য সবসময় উন্মুক্ত এবং নির্বিঘ্ন থাকা উচিত।’

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও শুক্রবার টানা ১৪তম দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে। গত মাসে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেটি ভেঙে পড়ে।

এদিকে সোমবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করায় সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আরও কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

আরও পড়ুন: ইরানে দিনেও হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টারে তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রটি মার্কিন বাহিনীকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছিল।

অন্যদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালি ও কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে হুথিদের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, তারা কোনো নৌপথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি।

1 comment on “হরমুজ সংকট নিরসনে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *