কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে তিনটি ফ্রান্সের তৈরি রাফাল, একটি রাশিয়ার তৈরি সু-৩০ এবং একটি মিগ-২৯। এছাড়া, কয়েকটি ভারতীয় ড্রোন এবং নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর কিছু ফাঁড়ি ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ভারত এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে, ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে পাকিস্তানি গোলার আঘাতে তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এই সংঘাতের সূত্রপাত গত ২২ এপ্রিল পহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায়, যাতে ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পাকিস্তানের ছয়টি শহর—শিয়ালকোট, ভাওয়ালপুর, মুরিদকে, মুজাফ্ফারাবাদ, বাগ ও কোটলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ভারত দাবি করেছে, এই হামলা জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তায়েবার মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, সামরিক স্থাপনায় নয়। পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, এতে আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বিমান বাহিনী তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা শুরু করে। তিনি দাবি করেন, ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো ভারতের আকাশসীমা থেকে হামলা চালানোর পর পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এগুলো ভূপাতিত করে। পাকিস্তানি সূত্রে বলা হয়, একটি রাফাল অবন্তিপুরার ১৭ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং অন্য বিমানগুলো আখনুর, আম্বালা ও বাথিন্ডায় ভূপাতিত হয়।
অন্যদিকে, ভারত গত মাসে ফ্রান্সের দাসোঁ এভিয়েশনের কাছ থেকে ৭৪০ কোটি ডলার মূল্যের ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছে। এই বিমানগুলো ভারতের বিমানবাহী রণতরি থেকে পরিচালিত হবে এবং পুরোনো মিগ-২৯ এর স্থান নেবে। বর্তমানে ভারতের হাতে ৩৬টি রাফাল রয়েছে, এবং নতুন চুক্তির ফলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহর আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছিল। তবে পাকিস্তানের দাবি, তিনটি রাফাল ভূপাতিত হওয়ায় ভারতের এই আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টায় ধাক্কা লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাত বিশ্বের জন্য অসহনীয় হতে পারে।
তবে, পাকিস্তানের দাবি সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। অতীতে, ২০১৯ সালের বালাকোট সংঘর্ষে পাকিস্তান সু-৩০ ভূপাতিত করার দাবি করেছিল, যা ভারত খণ্ডন করে এবং কেবল একটি মিগ-২১ হারানোর কথা স্বীকার করে। সাম্প্রতিক দাবিগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































