কাশ্মীরে পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে-newsedge24

উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) কাছে ক্রালাপোরার সোনোরার বাসিন্দা মোহাম্মদ মকবুল খান জানিয়েছেন, পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে তার বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে আমি ১৫,০০০ টাকা খরচ করেছি, কিন্তু সরকার আমাকে মাত্র ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।” খানের দাবি, তার মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৫-৩০ লাখ টাকা। উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম পরিদর্শন করলেও এই যৎসামান্য ক্ষতিপূরণে তিনি হতবাক।

কুপওয়ারার তাংধর, কর্ণা এবং বারামুল্লা জেলার উরি সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের মর্টার ও কামানের গোলাবর্ষণে শতাধিক বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উরির পারাম্পিলা গ্রামের সৈয়দ মুস্তাফা জানান, তার বোনের বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “গৃহস্থালির সমস্ত জিনিসপত্র ধ্বংস হয়েছে, জানালার কাচ, দরজা ভেঙে গেছে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, লাখ লাখ টাকার ক্ষতির বিপরীতে সরকার তাদের মাত্র ৬,৫০০ টাকা ত্রাণ দিয়েছে, যা তিনি “হাস্যকর” বলে উল্লেখ করেছেন।

উরির সালামবাদ গ্রামে তিনটি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং তিনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামের সাবেক প্রধান আব্দুল রশিদ আওয়ান জানান, সুলতান নিয়াকের দুই ভাই তালিব হুসেন ও মোহাম্মদ ইউনিসের বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, “এই বাড়িগুলো এখন বাসের জন্য নিরাপদ নয়। একটি দোতলা বাড়ি নির্মাণে ৩৫-৪০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়।” তালিব ও ইউনিসকে সরকার মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিলেও এটি পুনর্নির্মাণের জন্য অপ্রতুল।

পুঞ্চের দোঙ্গাসে মেহতাব দীন শেখের বাড়িও ৭ মে সকালে গোলাবর্ষণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, “আমার ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু সরকার আমাকে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। এই টাকায় পুনর্নির্মাণ তো দূর, ছোটখাটো মেরামতও সম্ভব নয়।”

সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, পুঞ্চ ও রাজৌরিতে পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে কমপক্ষে ৩১টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *