গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন-newsedge4

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি ও বিমান হামলায় বৃহস্পতিবার (২৬ জুন, ২০২৫) অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই হামলার পর মধ্যস্থতাকারীরা ইসরায়েল ও হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজা শহরের শেখ রাদওয়ান উপশহরে উদ্বাস্তু পরিবারের আশ্রয়স্থল একটি স্কুলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসে একটি তাঁবু শিবিরের কাছে আরেকটি হামলায় আরও ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

একই দিনে, গাজার মধ্যাঞ্চলে সালাহউদ্দিন সড়কে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকের জন্য অপেক্ষারত ভিড়ের মধ্যে ইসরায়েলি গুলিতে ৩ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা গাজার মানবিক সংকটকে আরও জটিল করছে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। জানুয়ারি ২০২৫-এ শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি মার্চ মাসে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে গাজায় ব্যাপক হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতের অংশ, যা ৫৬,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু এবং ১৩২,০০০-এর বেশি আহত হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো, বিশেষ করে কাতার ও মিশর, উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে ইসরায়েলের অবরোধ এবং সামরিক হামলা আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের হাতে থাকা বন্দিদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা সামরিক চাপ অব্যাহত রাখবে।

গাজায় ইসরায়েলের অবরোধের কারণে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরবরাহের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য ত্রাণ সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, গাজার ২১ লাখ বাসিন্দার প্রায় সবাই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন, এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা এই সংকটকে আরও গভীর করছে, কারণ সাধারণ মানুষ ত্রাণের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *