অর্থনৈতিক সংকটে ইসরাইল-newsedge24

এবার ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যেখানে সামরিক হামলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিশেষ করে ইসরাইল বন্ড করপোরেশনের প্রধান দানি নাভেহের বাসভবনে আঘাত এবং হাইফা বন্দরে হামলা, ইসরাইলের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই হামলাগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থায় আঘাত হেনেছে, আমদানি ঘাটতি ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ইসরাইলের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। হাইফা বন্দরে হামলার ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, এবং মায়ার্সকের মতো শিপিং কোম্পানি জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে, যা বীমা খরচ বাড়িয়েছে। ফলে, ইসরাইলের শেয়ারবাজারে তীব্র পতন দেখা গেছে, এবং বিদেশি বিনিয়োগ ৬০% কমে গেছে।

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় কাতারে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সিরিয়া ও লেবাননেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করেছে, এবং লেবাননের বৈরুতে ইরানের সমর্থনে বিক্ষোভ দেখা গেছে। এদিকে, চীন ইরানের সঙ্গে রেলযোগাযোগ উন্নয়নে সহায়তা বাড়িয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব গভীর হবে। জ্বালানি সংকট ও বাণিজ্যিক অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যয়ও ২৮৫ মিলিয়ন ডলার প্রতি রাতে পৌঁছেছে, যা অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *