জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ৩০ লাখ আফগান শরণার্থী পাকিস্তান ও ইরান থেকে নিজ দেশে ফিরতে পারেন। নিরাপত্তা উদ্বেগ, অর্থনৈতিক চাপ এবং বিপুল সংখ্যক অবৈধ আফগান নাগরিককে আশ্রয় দেওয়ার অক্ষমতার কারণে পাকিস্তান ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে শরণার্থীদের ফেরত পাঠিয়েছে। এদিকে, ইরান ৬ জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে অবৈধ আফগান (শরণার্থী) নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ভঙ্গুর অর্থনীতির আফগানিস্তান এই বিপুল সংখ্যক প্রত্যাবর্তনকারীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ইউএনএইচসিআর-এর আফগানিস্তান প্রতিনিধি আরাফাত জামাল বলেন, “যদিও আফগানিস্তান তার নাগরিকদের গ্রহণ করতে ইচ্ছুক, তবে এই বিশাল সংখ্যক প্রত্যাবর্তনের জন্য দেশ এখনও প্রস্তুত নয়।” ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ও ইরান থেকে ১৬ লাখ আফগান ফিরেছেন, যার বেশিরভাগই ইরান থেকে। ইউএনএইচসিআর ধারণা করেছিল, এই শরণার্থী সংখ্যা ১৪ লাখ হবে, কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা তাদের অনুমানকে ছাড়িয়ে গেছে।
প্রত্যাবর্তনকারীদের মধ্যে অনেকে খাদ্য, পানি, আশ্রয় এবং সুরক্ষার তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী ও কন্যা শিশুরা তালেবান শাসনাধীন আফগানিস্তানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং চলাফেরার স্বাধীনতার উপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ১১০,০০০ প্রত্যাবর্তনকারীকে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে এবং ৩০,০০০ আইডিপি ও প্রত্যাবর্তনকারীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে। তবে, তহবিলের ঘাটতির কারণে সহায়তা কমিয়ে ২,০০০ ডলার থেকে ১৫৬ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।
পাকিস্তান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ৮,৪৪,৪৯৯ আফগানকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়েছে, যার মধ্যে অনেকে তালেবানের নিপীড়নের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইরানে ২০ মার্চ ২০২৫ থেকে ৬৪০,০০০ আফগান ফিরেছেন, যার মধ্যে ৩৬৬,০০০ জনকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করা হয়েছে। সম্প্রতি ১৯ দিনে ৫০৫,৩৮৯ আফগান ইরান থেকে ফিরেছেন, যাদের মধ্যে ২১২,৩২২ জন জোরপূর্বক এবং ২৯৩,০৬৭ জন স্বেচ্ছায় ফিরেছেন।
আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, খরা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন এই প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য পুনর্বাসনকে আরও জটিল করছে। ইউএনএইচসিআর ৭১ মিলিয়ন ডলার তহবিল চেয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ২৩% তহবিল পাওয়া গেছে। আরাফাত জামাল সতর্ক করে বলেছেন, “অপরিকল্পিত প্রত্যাবর্তন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তবে সমন্বিত প্রত্যাবর্তন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে।” আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তিনি টেকসই পুনর্বাসনের জন্য আরও সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: এএফপি, ইউএনএইচসিআর

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































