কানাডার পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক শুল্ক ২৫% থেকে ৩৫%-এ বৃদ্ধি করায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি হতাশা প্রকাশ করেছেন। এর আগে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন কার্নি। এই পদক্ষেপের জন্য কানাডাকে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কানাডার পণ্যের ওপর শুল্ক ৩৫%-এ উন্নীত করা হয়েছে, যা ইউএসএমসিএ (যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি) এর আওতায় থাকা পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম এবং অটোমোবাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর পৃথকভাবে আরোপিত শুল্কের ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন কার্নি।
ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে অবৈধ মাদক ফেন্টানাইলের সরবরাহ বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ এনেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কানাডা থেকে ফেন্টানাইলের প্রবাহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি। যদিও মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মার্কিন সীমান্তে জব্দ করা ফেন্টানাইলের মাত্র ০.২% কানাডা সীমান্ত থেকে এসেছে।
প্রতিক্রিয়ায় কার্নি বলেন, “কানাডা উত্তর আমেরিকায় ফেন্টানাইলের বিপদ রোধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করে উভয় দেশের সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি ফেন্টানাইলের বিরুদ্ধে অভিযান এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে কানাডার প্রচেষ্টার রূপরেখা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ফেন্টানাইল চোরাচালান রোধে নতুন স্ট্রাইক ফোর্স, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এবং সাতটি আন্তর্জাতিক অপরাধী সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা।
কার্নি আরও জানান, কানাডা ইউএসএমসিএ চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় অটল থাকব।” তিনি কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বৈচিত্র্যময় রপ্তানি বাজার গড়ে তোলা এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাধা কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই শুল্ক বৃদ্ধি কানাডার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম এবং অটোমোবাইল শিল্পে। কানাডা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির প্রায় ৭৫% পণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়তে পারে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিন ইস্যুতে কানাডার ওপর ট্রাম্পের অসন্তোষ
এদিকে, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা কানাডা-মার্কিন সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি বাণিজ্য চুক্তি অর্জনকে আরও কঠিন করবে।
কানাডা এখনও প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি, তবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী প্রাদেশিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং নতুন অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছেন।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































