ট্রাম্পের কাশ্মীর মধ্যস্থতা প্রস্তাব-newsedge24

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে শুল্ক “খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাত্রায়” বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই বৃদ্ধি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর হবে। এর কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ করেছেন, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ক্রয় অব্যাহত রেখে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি সরবরাহ করছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট, ২০২৫) সিএনবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ভারত আমাদের ভালো বাণিজ্যিক অংশীদার নয়। তারা আমাদের সঙ্গে প্রচুর ব্যবসা করে, কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে ততটা করি না। আমরা ভারতের ওপর ২৫% শুল্ক স্থির করেছিলাম, কিন্তু আমি সেটা আগামী ২৪ ঘণ্টায় গুরুত্বপূর্ণভাবে বাড়াতে চলেছি, কারণ তারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে।” এ খবর প্রকাশ করেছে অনলাইন এনডিটিভি।

এর একদিন আগে সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৫) ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা করেন, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল কিনে তা বাজারে লাভে বিক্রি করছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থানকে শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, “ভারত শুধু রাশিয়ার থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে না, তারা এই তেল বাজারে বড় মুনাফায় বিক্রি করছে। তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে কত মানুষ মারা যাচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তিত নয়।” এই কারণে তিনি ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভারত এই অভিযোগের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করে বলেছে, তারা ভারতের তেল পরিশোধনকারীদের অন্যায্যভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে, অথচ নিজেরাই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, “ভারতের তেল আমদানি বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির দ্বারা প্রণোদিত। যারা আমাদের সমালোচনা করছে, তারা নিজেরাই রাশিয়ার সঙ্গে এমন বাণিজ্য করছে যা তাদের জন্য অপরিহার্য নয়।” তিনি আরও জানান, ইউরোপ-রাশিয়া বাণিজ্যে কেবল জ্বালানি নয়, সার, খনিজ পদার্থ, রাসায়নিক, লোহা ও ইস্পাত এবং যন্ত্রপাতি ও পরিবহন সরঞ্জামও রয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল আমদানি করবে ভারত

ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার প্রভাব পর্যালোচনা করছে এবং “ন্যায্য, সুষম ও পারস্পরিকভাবে উপকারী” দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

২০২৪ সালে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৮৭.৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের এই শুল্ক বৃদ্ধি ভারতের রপ্তানি, বিশেষ করে পোশাক ও পাদুকার মতো কম মুনাফার পণ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: জাপান সাগরে চীন-রাশিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার তেল আমদানি কমিয়ে দিলে ভারতকে তেল আমদানির জন্য উৎসাহিত করা হয়েছিল, যাতে বৈশ্বিক তেলের দাম স্থিতিশীল থাকে। ভারত বর্তমানে রাশিয়ার সমুদ্রপথে পরিবহন করা অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, যা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দৈনিক ১.৭৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছিল।

ট্রাম্পের এই শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ট্রাম্পের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো, তবু বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়াল আশাবাদী যে, দুই দেশ শীঘ্রই একটি “গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব” চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে, তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এই লক্ষ্যকে জটিল করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *