আকস্মিক বন্যা-newsedge24

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উত্তরকাশীর ধরালী গ্রামে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে কমপক্ষে ৪ জন নিহত এবং সেনাবাহিনীর ১১ জন সদস্যসহ প্রায় ১০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) কীর গঙ্গা নদীর উচ্চভূমিতে প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই বন্যা গ্রামের বাড়িঘর, দোকান ও রাস্তা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, আইটিবিপি ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ধরালীতে বিশাল ভূমিধস ও বন্যার পর উদ্ধার তৎপরতা ত্বরান্বিত করতে অতিরিক্ত সেনা কলাম, ট্র্যাকার কুকুর, ড্রোন, লজিস্টিক ড্রোন এবং মাটি সরানোর ভারী সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।” হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার এবং খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের চেষ্টা চলছে, তবে অবিরাম বৃষ্টি ও রাস্তার ক্ষতির কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বুধবার হেলিকপ্টারে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা পর্যালোচনা করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ১৩০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হলো জীবন রক্ষা করা। রাস্তা পুনরুদ্ধার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের কাজ চলছে।”

আরও পড়ুন: ভারতের ঝাড়খণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ তীর্থযাত্রী নিহত

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে। ধরালী ও সুক্কি গ্রামে প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে গঙ্গোত্রীর পথে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সেনাবাহিনীর ১৪ রাজপুতানা রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল হর্ষবর্ধনের নেতৃত্বে ১৫০ জনের একটি দল ধরালী ও হারসিলে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। এছাড়া, সেনাবাহিনীর হারসিল ক্যাম্পে ভূমিধসের কারণে ১১ জন সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *