পাকিস্তানে চলমান ভয়াবহ বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ) জানিয়েছে, ২৬ জুন থেকে এ পর্যন্ত বন্যা, ঘরবাড়ি ধস, বজ্রপাত ও পাহাড়ি ঢলে কমপক্ষে ৬৫৭ জন নিহত এবং ৯২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশ, বিশেষ করে বুনের জেলা, যেখানে রেসকিউ ১১২২-এর তথ্যানুসারে ৩৭৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ও পরিস্থিতি
- খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি): এই প্রদেশে ৩৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই বুনের জেলার বাসিন্দা। পারাচিনারে স্রোত ও কুররম নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে রাস্তা ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নওশেরার চাক্কি মামরেজে বৃষ্টির সময় ঘরের ছাদ ধসে এক দম্পতির মৃত্যু হয়। পেশোয়ারে টানা বৃষ্টিতে নগর বন্যা দেখা দিয়েছে, সদর বাজার, ইউনিভার্সিটি রোড, গুলবাহার, হায়াতাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ এবং ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
- পাঞ্জাব: মুলতান, কাবিরওয়ালা, ঝাং, খুশাবে ভারি বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চোয়াসৈদন শাহে ৬৭ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। ভাক্কার ও মিয়ানিতে মহল্লা ডুবে গেছে।
- বেলুচিস্তান: কুইটা ও আশপাশের জেলাগুলোয় মেঘলা ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঝোব, লোরালাই, কহলু, কালাত, সিবিতে নতুন বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
- আজাদ কাশ্মীর: বিভিন্ন এলাকায় বজ্রঝড়ের খবর পাওয়া গেছে।
- নদী ও বাঁধের পরিস্থিতি: সিন্ধু নদে মধ্যম মাত্রার বন্যা দেখা দিয়েছে। জিন্নাহ ব্যারেজে পানির প্রবাহ ৪,৩৯,৫৮৬ কিউসেক এবং চাশমায় ৪,৮৩,৫১২ কিউসেক। তারবেলা বাঁধ ৯৭% এবং মঙ্গলা ৭১% পূর্ণ। সুতলজ নদীতে নিম্নমাত্রার বন্যা চলছে।
এনডিএমএ’র চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনাম হায়দার জানিয়েছেন, পাকিস্তানে এ বছরের বর্ষার তীব্রতা গত বছরের তুলনায় ৫০-৬০% বেশি। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিক পর্যন্ত আরও ২-৩টি বর্ষার ধাপ আসতে পারে। পাকিস্তানের প্রধান আবহাওয়াবিদ জহির বাবর বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষার বৃষ্টি আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল, নদীতীরে বাড়ি নির্মাণ, বন্ধ ড্রেন এবং আবর্জনা ফেলার মতো মানবসৃষ্ট কারণ ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, এবং ২০২২ সালের বন্যায় দেশটির এক-তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে ১,৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ইতালিতে নৌকা ডুবে ২৬ অভিবাসীর মৃত্যু, ৬০ জন উদ্ধার
এনডিএমএ এবং সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে। ৬২টি উদ্ধার অভিযানে ৪৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, এবং ৩,৩৪৯টি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ এড়াতে এবং এনডিএমএ’র ডিজাস্টার অ্যালার্ট অ্যাপের মাধ্যমে আপডেট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































