ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তার বাহিনী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য ‘ট্রিগারে হাত রেখে প্রস্তুত’ রয়েছে।
‘ইরান মিরর’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আইআরজিসি প্রধান পাকপুর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করে বলেন, “অপরাধী, দুষ্ট ও মানবতাবিরোধী শত্রুরা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভুয়া ও বর্ণবাদী জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) যেন ইতিহাসের অভিজ্ঞতা এবং গত জুনে চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে যা ভোগ করেছে, তা থেকে শিক্ষা নেয়। তারা যদি কোনো ভুল হিসাব করে, তাদের পরিণতি হবে আরও যন্ত্রণাদায়ক ও অনুশোচনার।”
তিনি আরও বলেন, “আমেরিকান-জায়নিস্টদের শত্রুতা ও বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি ও নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করেছে আইআরজিসি বাহিনী।”
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরের শেষদিকে ইরানে বিক্ষোভ দেখা দেয়, যা দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের উসকানিতে দাঙ্গাবাজদের দখলে চলে যায়। সশস্ত্র দাঙ্গাকারীরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে এবং প্রতিরোধ করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে সহিংসতাকে উৎসাহিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকি সন্ত্রাসী সেলগুলোর জন্য ‘সর্বাধিক রক্তপাত’-এর কৌশল অনুসরণে সরাসরি প্রণোদনা হিসেবে কাজ করেছে, যাতে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে টেনে নেওয়া যায়।”
ইরান কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পরিকল্পিত ফাঁসি কার্যক্রম স্থগিত করেছে। হোয়াইট হাউসের হামলার হুমকি থেকে ট্রাম্প সরে আসলেও চাপ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি ‘আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইরান আলোচনায় আগ্রহী, ওয়াশিংটনও প্রস্তুত: দাভোসে ট্রাম্পের বার্তা
মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দাভোস থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের দিকে নজর রাখছি। আমাদের অনেক জাহাজ সেদিকে যাচ্ছে। যদি কিছু হয় সেই প্রস্তুতির জন্য, আমরা ইরানের দিকে একটি বড় ফোর্স পাঠাচ্ছি। আমি চাই না কিছু ঘটুক, কিন্তু আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।”

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































