যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত নিরাপত্তার বদলে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বেছে নেয়, তাহলে বেইজিং এক বছরের মধ্যেই কানাডাকে ‘গিলে ফেলবে’।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “কানাডা গ্রিনল্যান্ডের ওপর ‘গোল্ডেন ডোম’ নির্মাণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অথচ এই গোল্ডেন ডোম কানাডাকেও সুরক্ষা দিত। এর বদলে তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার পক্ষে ভোট দিয়েছে—যে চীন এক বছরের মধ্যেই তাদের ‘গিলে ফেলবে’!”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির বক্তব্যের পর। কারনি বলেছিলেন, বিশ্ব এখন মহাশক্তির প্রতিযোগিতার যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরোধিতা করেন—যা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ওয়াশিংটনের আর্থিক চাপের প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
চীনের সঙ্গে কানাডার নতুন বাণিজ্য চুক্তি
১৭ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন কারনি। তিনি বলেন, এই চুক্তি কানাডার ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য নতুন বাজার খুলে দেবে। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে কারনি লিখেছেন, “আমরা চীনের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করেছি। এর মাধ্যমে কানাডার শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত হবে।”
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি আরও বিভক্ত ও অনিশ্চিত বিশ্বে কানাডা একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলছে। সে লক্ষ্যে নতুন সরকার দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করছে। চীন এই লক্ষ্য পূরণে কানাডার জন্য বিশাল সুযোগ এনে দিয়েছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত ১০০% শুল্ক কমানোর বিনিময়ে কানাডা কৃষিপণ্যের ওপর চীনের শুল্ক হ্রাসে সম্মত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বছরে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি কানাডায় আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে, যা পাঁচ বছরে বেড়ে প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছাবে। চীন কানাডার গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক ৮৪% থেকে কমিয়ে প্রায় ১৫%-এ নামাবে। কারনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন এখন কানাডার জন্য বেশি পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদার।
আরও পড়ুন: আবু ধাবিতে ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াও ইউক্রেন
বর্তমানে কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৩৫% শুল্ক আরোপ করেছে। আমদানি করা ধাতুর ওপর ৫০% এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উৎপাদিত গাড়ির ওপর ২৫% শুল্কের প্রভাবও পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের বিরুদ্ধে ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর চীনা পণ্যের একটি অংশের ওপর শুল্ক ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































