যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইরান সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান সরকার এই হুমকির মুখে দেশের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ মোতায়েন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরাইলি বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক শক্তি ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে সক্ষম।
অনলাইন গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী একাধিক ডেস্ট্রয়ারসহ মার্কিন নৌবহর এখনো চূড়ান্ত অবস্থানে না পৌঁছালেও তারা ইরানের ওপর হামলার কার্যকর পরিসরে রয়েছে। তবে এটি নিশ্চিত নয় যে, এমন হামলা ইরানে আবারও ব্যাপক বিক্ষোভ উসকে দেবে। কারণ, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরোধিতা করলেও অনেক ইরানি বাইরের শক্তির দ্বারা শাসন পরিবর্তনেরও বিরোধী।
কূটনৈতিক অগ্রগতির কোনো লক্ষণ না থাকায় সোমবার ইরানের শেয়ারবাজারে একদিনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পতন ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের ওপর হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। কিন্তু ভূমধ্যসাগরে বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতির কারণে হামলা চালাতে তৃতীয় পক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। সম্প্রতি মার্কিন সামরিক বাহিনী অঞ্চলে একটি মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য যুদ্ধবিমানের শক্তি মোতায়েন, ছড়িয়ে দেওয়া ও দীর্ঘমেয়াদি ধরে রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন।
সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক অবনতিতে ক্ষুব্ধ জনগণকে রাস্তায় নামতে প্ররোচিত করা। সরকারি তথ্য অনুসারে, গত এক মাসে ইরানে মুদ্রাস্ফীতি ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলার আগে ইরানের সামাজিক ঐক্য ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, দেশকে জরুরি অবস্থার মধ্যে তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একধরনের যুদ্ধ চালাচ্ছেন। শত্রুরা দাঙ্গাকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে গৃহযুদ্ধ উসকে দিতে চায়।
আরও পড়ুন: সরকারবিরোধী ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড স্থগিত করল ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক যোগাযোগের দাবি মিথ্যা। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান সমন্বিত ও বেদনাদায়ক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই আলোচনার টেবিলে না ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বিক্ষোভের মধ্যে ট্রাম্প হামলা থেকে বিরত ছিলেন, কারণ তার হাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করার নির্ণায়ক পরিকল্পনা ছিল না।
আরও পড়ুন: ইরানের আইআরজিসি প্রধানের হুঁশিয়ারি: ‘ট্রিগারে হাত রয়েছে’
বিক্ষোভে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যু ৫,৪১৯-এ পৌঁছেছে এবং আরও ১৭,০০০ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মাই সাতো এসব সংখ্যা যাচাই করতে পারেননি। ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ মারাত্মকভাবে সীমিত। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ২০ দিনের বেশি বিচ্ছিন্নতা সহ্য করতে পারবে না।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































