গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫১,০০০ ছাড়িয়েছে-newsedge24

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে মেনে নিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল শুক্রবার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

এর আগে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিহতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল ইসরায়েল। তারা দাবি করে আসছিল যে, হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিন্তু জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নথিভুক্ত সংখ্যাকে নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে মোট নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

গত বৃহস্পতিবার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে ইসরায়েলের ওয়াইনেট নিউজ ওয়েবসাইটসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, সামরিক বাহিনীও প্রায় একই ধরনের হিসাব মেনে নিয়েছে।

ওয়াইনেটকে এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত নন। (হতাহতদের মধ্যে) কারা সন্ত্রাসী ছিলেন আর কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন না—এটি নির্ধারণে আমরা এখন কাজ করছি।”

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বলেছে, “এই বিষয়ে যেকোনো তথ্য বা প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিক ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।”

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে ইরান

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের সংখ্যা এখনও অজানা।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকার করে আসছে। ইসরায়েলের এই স্বীকৃতি গাজায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের একটি নতুন মোড় এনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *