মিজানুর রহমান আজহারী-Mizanur Rahmana Azhari-newsedge24

ইহুদি বিদ্বেষী মন্তব্য ও অ্যাডলফ হিটলারকে প্রশংসা করার অভিযোগে বাংলাদেশি ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রায় এক কোটির বেশি অনলাইন অনুসারী থাকা আজহারী এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে নিয়মিত বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। তিনি ‘লিগসি অব ফেইথ’ শিরোনামের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইস্টার উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া সফর করছিলেন। তার সফরসূচিতে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করা হয় এবং বর্তমানে তাকে নির্বাসনের জন্য অপেক্ষায় রাখা হয়েছে।

ডেইলি মেইল জানায়, এর আগে যুক্তরাজ্যে আজহারীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বাংলাদেশেও উগ্র ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে তাকে জনসমক্ষে বক্তৃতা দিতে নিষেধ করা হয়েছিল। বুধবার অস্ট্রেলিয়ার একজন লিবারেল সিনেটর জানান, আজহারীর আগমনের বিষয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন সংসদ সদস্যদের আগেই সতর্ক করেছিল।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক বক্তব্যে আজহারী ইহুদিবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তুলে ধরেন, হলোকাস্ট নিয়ে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন, ইহুদিদের অমানবিকভাবে উপস্থাপন করেন এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। তিনি হিটলারকে ইহুদিদের জন্য ‘ঈশ্বরের শাস্তি’ বলে অভিহিত করেন, ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন এবং ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ বলে মন্তব্য করেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, বিশ্বের নানা সমস্যার জন্য—যার মধ্যে এইডসও রয়েছে—ইহুদিরাই দায়ী। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি হিটলারের ইহুদিদের ওপর নির্যাতন নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

সিনেটর বলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উগ্রবাদ ও ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে ২০২১ সালে আজহারীর প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ানোর আশঙ্কায়।

আরও পড়ুন: ‘যারা যুদ্ধ করে তাদের প্রার্থনা সৃষ্টিকর্তা গ্রহণ করেন না’: পোপ

বাংলাদেশে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের একটি সংগঠনও অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। তারা সতর্ক করে যে, আজহারীর বক্তব্য ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং উগ্র মতাদর্শকে বৈধতা দিতে পারে।

এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *