ইরান চুক্তিতে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের ‘কঠোর শর্ত’!

ইরান চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চুক্তিকে আরও কঠোর ও বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে সংশোধিত কাঠামো আবারও তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তবে এখনো কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি, ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবিত চুক্তির কিছু ধারা পুনর্বিবেচনা করেছে এবং আগের খসড়ার তুলনায় আরও কঠোর ভাষা যুক্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, নতুন কাঠামোটি ইরানের মূল্যায়নের জন্য ফের পাঠানো হয়েছে। যদিও পরিবর্তিত শর্তগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে সেগুলোর বড় অংশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ এবং পারমাণবিক উপাদানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে যাতে তেহরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেজন্য চুক্তির ভাষা আরও স্পষ্ট ও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সেই সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করাও ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নতুন শর্ত যুক্ত হওয়ায় আলোচনার প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। কারণ, ইরান অতীতে একাধিকবার স্পষ্ট করেছে যে তারা নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অতিরিক্ত চাপ বা একতরফা শর্ত মেনে নিতে রাজি নয়। ফলে নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসে শুক্রবার অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক উপদেষ্টারা অংশ নিলেও ট্রাম্প বৈঠক শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। এর ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

  • ইরান যুদ্ধ অবসানে প্রস্তাবিত চুক্তির কয়েকটি শর্ত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • সংশোধিত প্রস্তাব পুনরায় ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
  • পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম মজুদ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।
  • হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করাকে চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
  • সংশোধনের কারণে চূড়ান্ত সমঝোতা আরও কয়েক দিন পিছিয়ে যেতে পারে।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, বর্তমান আলোচনা শুধু যুদ্ধবিরতির প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের নতুন দিকও নির্ধারণ করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় চূড়ান্ত চুক্তি এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত পথের যাত্রী। আগামী কয়েক দিনের আলোচনা এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *