মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট-newsedge24

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে ভিসা ও অভিবাসন-সুবিধা বাতিলের এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন, অপরাধে জড়িয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছেন, প্রতারণা করেছেন, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছেন—মূলত সেসব ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

দপ্তর আরও জানিয়েছে, অধিকাংশ ভিসা বাতিলের পেছনে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা। এসব ক্ষেত্রে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ছিল প্রধান কারণ।

পররাষ্ট্র দপ্তর কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে গুরুতর ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। আরেকজন অপহরণ ও মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত। অন্য একজনের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার এক ডজনের বেশি অভিযোগ রয়েছে।

উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০টিরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এ জড়িত বাবা-মায়েদের। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এসব বাবা-মা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, যাতে তাদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে।

এছাড়া রক্ষণশীল মার্কিন রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড উদ্‌যাপন বা সমর্থন করেছেন এমন কয়েকজন বিদেশির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। তাদের মধ্যে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন যে কার্ক ‘খুব দেরিতে মারা গেছেন’।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। সে সময় এটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানেই সেই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক-আইনি সংকটে কোণঠাসা ট্রাম্প

ট্রাম্প গত বছর দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু করে তার প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি বৈধ ভিসাধারীদের মধ্যেও অনেকে এই অভিযানের আওতায় পড়েছেন।

একই সঙ্গে বিদেশিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।

তবে প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি বাকস্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং অভিবাসীদের বেছে বেছে নজরদারির আওতায় আনার মাধ্যমে বৈষম্য ও হয়রানির ঝুঁকি বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *