যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও ৭ টি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই দেশগুলো হলো ফিলিপাইন, ব্রুনেই, মলদোভা, আলজেরিয়া, ইরাক, লিবিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। বুধবার তিনি এই দেশগুলোর সরকারের উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়েছেন। এর আগে সোমবার তিনি বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের চিঠি প্রকাশ করেন, ফলে মোট ২১টি দেশ এই শুল্কের আওতায় এসেছে। তবে ব্রাজিলের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ৫০% শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ট্রাম্প ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান বিচার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর “হামলা” চালাচ্ছে এবং বলসোনারোর বিরুদ্ধে “উইচহান্ট” বা মিথ্যা অভিযোগ চালানো হচ্ছে। ২০২২ সালের ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বলসোনারোর বিরুদ্ধে বিচার চলছে।
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “ব্রাজিলের বিচার ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। শুল্ক বৃদ্ধির যেকোনো একতরফা পদক্ষেপের জবাব ব্রাজিলীয় আইন অনুযায়ী দেওয়া হবে।” এর আগে এই সপ্তাহে ট্রাম্প ও লুলার মধ্যে বলসোনারোর বিচার নিয়ে তীব্র বাকযুদ্ধ হয়। লুলা স্পষ্ট করে বলেন, “কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
ট্রাম্প আরও ঘোষণা দেন, জাতীয় নিরাপত্তার কারণে কপার আমদানির ওপর ৫০% শুল্ক ১ আগস্ট, ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কপার শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করবে, যা প্রতিরক্ষা এবং অবকাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সপ্তাহে তিনি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ২২টি দেশের নেতাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে তিনি জানিয়েছেন যে, নতুন শুল্ক ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
ব্রাজিলের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের চিঠিটি ছিল অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি আক্রমণাত্মক। তিনি বলেন, ব্রাজিলের বর্তমান শাসনের “গুরুতর অন্যায়” শুধরাতে এই ৫০% শুল্ক জরুরি। এর আগে এপ্রিলে ব্রাজিলের ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা এখন বাড়িয়ে ৫০% করা হচ্ছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ব্রাজিলের “অন্যায্য বাণিজ্য সম্পর্ক” এবং আমেরিকান সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে “গোপন ও অবৈধ সেন্সরশিপ” এর জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই শুল্ক আরোপের ফলে ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাজিলের শীর্ষ রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, কফি, আধা-সমাপ্ত ইস্পাত এবং পিগ আয়রন, যা এই শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।













































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































