প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-trump-newsedge24

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত এপ্রিলে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে চার থেকে পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে নৈশভোজে তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে বিমানগুলোকে আকাশ থেকে গুলি করে নামানো হচ্ছিল। পাঁচটা, চার বা পাঁচটা, তবে আমার মনে হয় পাঁচটা যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল।”

তবে তিনি কোন দেশের বিমান হারিয়েছে, তা নির্দিষ্ট করেননি। গত ১০ মে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এই সংঘাতের অবসান হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা এবং বাণিজ্য চাপের মাধ্যমে এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।

পাকিস্তান দাবি করে, তারা ৭ মে ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে তিনটি রাফাল, একটি মিগ-২৯ এবং একটি সুখোই সু-৩০ ছিল। পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর ডেপুটি চিফ অপারেশনস এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদ এই দাবির পক্ষে ইলেকট্রনিক সিগনেচার এবং ভূপাতিত স্থানের তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই সংঘর্ষে ৬০টি ভারতীয় বিমানের বিপরীতে পাকিস্তান ৪২টি উচ্চ-প্রযুক্তির বিমান, যার মধ্যে আমেরিকান এফ-১৬ এবং চীনা জে-১০ ও জেএফ-১৭ ব্যবহার করেছিল।

অন্যদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান স্বীকার করেন, সংঘাতের প্রথম দিনে ভারত কিছু বিমান হারিয়েছিল, তবে পরে কৌশল পরিবর্তন করে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি বিমান ভূপাতিত করে এবং শেষ পর্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছায়।

তিনি পাকিস্তানের দাবিকে অস্বীকার করে বলেন, কোনো রাফাল বিমান হারানো যায়নি। ভারত দাবি করে, তারা পাকিস্তানের “কয়েকটি” বিমান ভূপাতিত করেছে, যদিও ইসলামাবাদ কোনো বিমান হারানোর কথা অস্বীকার করে, তবে তাদের বিমানঘাঁটিতে ক্ষতির কথা স্বীকার করে।

ট্রাম্পের দাবি ও ভারতের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা এবং বাণিজ্য বন্ধের হুমকির মাধ্যমে ১০ মে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সংঘাত বন্ধ করেছেন এবং কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাকিস্তান এই মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়, কিন্তু ভারত স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানান, যুদ্ধবিরতি ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে হয়েছে, এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না। ভারতের অবস্থান হলো, তাদের ও পাকিস্তানের মধ্যে যেকোনো সমস্যা দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান করতে হবে।

আরও পড়ুন: সিরিয়া ও ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে

ট্রাম্পের মন্তব্য ভারতে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ভারতের কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন, বিশেষ করে যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়ে। তিনি ট্রাম্পের বারবারের দাবিকে “৭০ দিনে ২৪ বার” বলে সমালোচনা করেছেন এবং মোদি সরকারের নীরবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

এদিকে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক চীনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক মৈত্রী এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কূটনৈতিক সমর্থন এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাকে জটিল করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *