ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেন কোনো ভূখণ্ড ছাড়বে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে শান্তি আলোচনায় কোনো ফল পাওয়া যাবে না। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।
ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইউক্রেনকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ভূখণ্ড ছাড়তে হতে পারে। এর জবাবে জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, “ইউক্রেন ভূখণ্ড ছাড়বে না।” তিনি আরও বলেন, কিয়েভকে বাদ দিয়ে যেকোনো শান্তি আলোচনা “মৃত সমাধান” (dead solutions) নিয়ে আসবে। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও জোর দিয়েছেন যে, এতে ইউক্রেনের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
জেলেনস্কি এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’-এ বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা করি, কারণ তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তবে আমি চাই একটি প্রকৃত, ফলপ্রসূ বৈঠক, যেখানে ট্রাম্প আমাদের কথা শুনবেন এবং একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করবেন।” তিনি ইউক্রেনের সংবিধানের উল্লেখ করে বলেন, ক্রিমিয়াসহ কোনো দখলকৃত ভূখণ্ডকে রাশিয়ার বলে স্বীকৃতি দেওয়া সাংবিধানিকভাবে অসম্ভব।
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তিনি আগামী ১৫ আগস্ট আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানের জন্য, যেখানে “ভূখণ্ড বিনিময়” নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এই ঘোষণা ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প আগে বলেছিলেন যে, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য জেলেনস্কির উপস্থিতি জরুরি, কিন্তু সম্প্রতি তিনি বলেন, পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা না করলেও তিনি বৈঠক করতে প্রস্তুত। এটি ইউক্রেনের জন্য “কূটনৈতিক আঘাত” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, “ট্রাম্প প্রথমে পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন, এটা খুব একটা সুখকর নয়। তবে আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক, তারপর যৌথভাবে পরিকল্পনা তৈরি করে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা।” তিনি ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর জোর দিয়েছেন।
ইউরোপীয় নেতারা, যেমন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস ও এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্নো পেভকুর, ট্রাম্পের একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তারা বলেন, আলোচনা শুরুর আগেই রাশিয়াকে সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন: ভারতের সঙ্গে আর বাণিজ্য আলোচনা করবেন না ট্রাম্প
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, রাশিয়ার রাতভর হামলায় খারকিভ ও ডিনিপ্রো অঞ্চলের আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খারকিভের লোজোভায় রেলওয়ে অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলায় একজন রেলওয়ে মেকানিক নিহত এবং বেশ কয়েকটি ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, ২৫টি শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলায় সিভিলিয়ান অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। সুমি ও জাপোরিঝঝিয়াতেও হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন।
শান্তি আলোচনা ও রাশিয়ার অবস্থান
রাশিয়া ২০১৪ সাল থেকে ক্রিমিয়া এবং পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অংশ দখল করে আছে এবং বর্তমানে দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। পুতিন ইউক্রেনের নিরপেক্ষতা, সামরিক শক্তি হ্রাস এবং দখলকৃত চারটি অঞ্চলের (লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝঝিয়া, খেরসন) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করেছেন, যা কিয়েভ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্প ৮ আগস্টের মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য সময়সীমা দিয়েছিলেন, অন্যথায় রাশিয়া ও তার তেল ক্রেতা দেশগুলোর (যেমন ভারত, চীন) ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন। তবে পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য “প্রয়োজনীয় শর্ত” এখনো তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































