জাপানের প্রধানমন্ত্রী-newsedge4

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মধ্যে বিভক্তি এড়াতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশটির প্রচারমাধ্যম এনএইচকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় জাপানের কৃষিমন্ত্রী এবং একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইশিবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে পদত্যাগে রাজি করান। এর আগে গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এলডিপি-নেতৃত্বাধীন জোটের ঐতিহাসিক পরাজয় এবং পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর ইশিবা পদত্যাগের খবর অস্বীকার করেছিলেন। তবে দলের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে তিনি অবশেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

পদত্যাগের কারণ

  • নির্বাচনে পরাজয়: ২০২৫ সালের জুলাইয়ের নির্বাচনে এলডিপি এবং তাদের জোটসঙ্গী কোমেইতো পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে (হাউস অব কাউন্সিলরস) সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এছাড়া গত অক্টোবরে নিম্নকক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় জোটটি, যা ২০০৯ সালের পর প্রথম।
  • দলের অভ্যন্তরীণ চাপ: ডানপন্থি বিরোধী সদস্যরা জুলাইয়ের নির্বাচনের ফলাফলের দায়ভার ইশিবার ওপর চাপিয়েছেন। দলের মধ্যে বিভক্তি রোধে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
  • রাজনৈতিক অস্থিরতা: নির্বাচনী পরাজয়ের ফলে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় ইশিবার জোটের নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পদত্যাগের দাবি তীব্র হয়।

ইশিবা জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত শুল্ক চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। গত ২৩ জুলাই ঘোষিত এই চুক্তি জাপানি গাড়ির উপর শুল্ক হ্রাস করে এবং অন্যান্য পণ্যের উপর নতুন শুল্ক থেকে টোকিওকে রক্ষা করে। তবে নির্বাচনী পরাজয় এবং দলের চাপ তাকে পদত্যাগের পথে ঠেলে দেয়।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন!

ইশিবার পদত্যাগের ফলে এলডিপিতে নেতৃত্বের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হবে। জোটটি বর্তমানে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, যা নতুন নেতার জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে নিশ্চিত হওয়া কঠিন করে তুলবে। এছাড়া, ডানপন্থি নতুন রাজনৈতিক দল, যেমন জাপানিজ ফার্স্ট সানসেইতো, জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে, যা এলডিপির জন্য আরও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *