মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-newsedge4

মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান অজিত পাওয়ার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে মুম্বাই থেকে বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ছোট বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের কাছাকাছি মাঠে বিধ্বস্ত হয় এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট, ক্রু সদস্য ও অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তাকর্মীসহ বিমানে থাকা সব ৫ জনই প্রাণ হারান।

ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লিয়ারজেট ৪৫ (রেজিস্ট্রেশন VT-SSK) বিমানটি সকাল ৮টার দিকে মুম্বাই থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় ৪৫ মিনিট পর বারামতিতে অবতরণের চেষ্টাকালে দ্বিতীয় অ্যাপ্রোচে নিয়ন্ত্রণ হারায়। বিমানটি রানওয়ের পাশে পড়ে যায় এবং বিস্ফোরণ ঘটে আগুন লেগে যায়। ঘটনাস্থলে ধোঁয়া ও আগুনের দৃশ্য দেখা যায়, বিমানের অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, কিন্তু কেউ বেঁচে ফেরেনি।

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসসহ বিভিন্ন নেতা শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, “বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যু অকাল ও দুঃখজনক। তার পরিবার ও শোকাহতদের প্রতি সমবেদনা।”

৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ার ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক শরদ পাওয়ারের ভাতিজা এবং লোকসভা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের চাচাতো ভাই। তিনি ২০২৩ সালে এনসিপিতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে দলকে দু’ভাগে বিভক্ত করেন। একটি অংশের নেতৃত্বে তিনি নিজে এবং অন্যটিতে তার কাকা শরদ পাওয়ার। পরে তিনি এনডিএ সরকারে যোগ দিয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হন।

আরও পড়ুন: ফিলিপাইনে ফেরি ডুবে ১৫ নিহত, নিখোঁজ ২৮

দুর্ঘটনার সময় অজিত পাওয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের (জিল্লা পরিষদ) আগে বারামতিতে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল। শরদ পাওয়ার ও সুপ্রিয়া সুলে সংসদের বাজেট অধিবেশনের জন্য দিল্লিতে ছিলেন। তারা এখন বারামতির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার, ছেলে পার্থ পাওয়ারসহ পরিবারের সদস্যরাও ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন।

এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিমানটি চার্টার্ড ছিল এবং বারামতি বিমানবন্দর সম্প্রতি রাজ্য সরকারের অধীনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *