ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক, নৃত্য পরিচালক ও প্রযোজক জাভেদ আর নেই। বুধবার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান হলো।

এক নজরে চিরস্মরণীয় জাভেদ

বাঙালি দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন স্টাইল আর অ্যাকশনের প্রতীক। খলনায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও খুব দ্রুতই নিজের নাচের দক্ষতা আর অভিনয়ের জাদু দিয়ে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন আপামর জনসাধারণের মন।

  • পুরো নাম: ইলিয়াস জাভেদ।
  • পরিচিতি: ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘ড্যাশিং হিরো’ ও সফল নৃত্য পরিচালক।
  • উল্লেখযোগ্য ছবি: নিশান, মমতাজ, নূরী, রাজকুমারী, মালকা বানু ও চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা।
  • অবদান: প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং অসংখ্য গানে কোরিওগ্রাফি করেছেন।

জাভেদের ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, ছিলেন এক দক্ষ কারিগর। সত্তরের দশকে যখন বাংলা চলচ্চিত্র একটি বাঁকবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন জাভেদ তাঁর ভিন্নধর্মী স্টাইল দিয়ে দর্শকদের নতুন কিছুর স্বাদ দিয়েছিলেন। বিশেষ করে ফোক-ফ্যান্টাসি বা লোকগাথা ভিত্তিক চলচ্চিত্রে তাঁর উপস্থিতি ছিল অনিবার্য।

তিনি যখন পর্দায় তলোয়ার হাতে শত্রুর মোকাবিলা করতেন কিংবা রাজকন্যার প্রেমে বিরহী গান গাইতেন, তখন সিনেমা হলগুলোতে করতালির জোয়ার বইত। তাঁর শারীরিক ভাষা এবং নাচের মুদ্রায় ছিল আভিজাত্য ও শৈল্পিকতার এক অপূর্ব মিশেল। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং কাজের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক মানুষ।

নায়ক জাভেদের প্রয়াণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ চলচ্চিত্র পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বর্ষীয়ান এই অভিনেতার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীসহ বর্তমান প্রজন্মের অনেক তারকা। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাভেদের মতো বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শিল্পী সচরাচর দেখা যায় না। তিনি নিজে যেভাবে নাচতেন, তেমনিভাবে পর্দার অন্য তারকাদেরও তাঁর নির্দেশনায় নাচিয়ে তুলেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *