ডনাল্ড-ট্রাম্প-newsedge24

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সফল করার জন্য ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান বাডি কার্টার এই মনোনয়ন জমা দিয়ে ট্রাম্পের “অসাধারণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা”র জন্য প্রশংসা করেছেন। তবে, ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ওলেক্সান্ডার মেরেজকো ট্রাম্পের প্রতি আস্থা হারিয়ে তার পূর্বের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন, এবং পাকিস্তানও ট্রাম্পের সমর্থন থেকে সরে এসেছে।

২৩ জুন, ২০২৫-এ ট্রাম্প ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যাকে তিনি “১২ দিনের যুদ্ধ” নামে অভিহিত করেন। এর আগে, ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইলের সমর্থনে মার্কিন হামলা চালানো হয়। কংগ্রেসম্যান কার্টার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কাছে লিখিতভাবে বলেন, “ট্রাম্পের প্রভাব অসম্ভব মনে হওয়া এই চুক্তি সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” তিনি ট্রাম্পের সাহস ও স্পষ্টতার প্রশংসা করে বলেন, এটি বিশ্বে শান্তির আশা জাগিয়েছে। তবে, ইসরাইল ও ইরান পারস্পরিকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে, যা চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার মে মাসে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা হ্রাসে ট্রাম্পের “নির্ণায়ক কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ”র জন্য তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেন। তবে, ইরানে মার্কিন হামলার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে “গভীর উদ্বেগজনক” বলে নিন্দা করে, যা ট্রাম্পের সমর্থনে ফাটল ধরায়।

ইউক্রেনের সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির প্রধান ওলেক্সান্ডার মেরেজকো গত নভেম্বরে ট্রাম্পকে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিলেন, আশা করে যে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন। কিন্তু ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি—২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ শেষ করা—পূরণ না হওয়ায় মেরেজকো তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তিনি নিউজউইককে বলেন, “ট্রাম্পের উপর আমার কোনো আস্থা নেই। তিনি রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতি নীরব রয়েছেন।” মার্চে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি মেনে নিলেও রাশিয়া তাতে সাড়া দেয়নি।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আসছেন। ২০ জুন, ২০২৫-এ ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “আমি যাই করি না কেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাব না।” তিনি ২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ড, ভারত-পাকিস্তান, সার্বিয়া-কসোভো ও রুয়ান্ডা-কঙ্গো সংঘাতে মধ্যস্থতার জন্য “চার-পাঁচবার” পুরস্কার প্রাপ্য ছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটা শুধু লিবারেলদের জন্য দেওয়া হয়,” যদিও তিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট—থিওডোর রুজভেল্ট (১৯০৬), উড্রো উইলসন (১৯১৯), এবং বারাক ওবামা (২০০৯)—এই পুরস্কার জিতেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *